নিজস্ব প্রতিবেদক : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেলেও দেশের চা শিল্পে এখনও এর রেশ রয়ে গেছে। চা শ্রমিকদের সরাসরি দাস বলা যাচ্ছে না কিন্তু তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর দায় সরকার, শিল্প মালিক, চা সংসদ, ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর।
মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি মাইডাস ভবনে টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। ‘চা বাগানের কর্ম-পরিবেশ ও শ্রমিকদের অধিকার: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে টিআইবি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেলেও এর রেশ কাটেনি। দেশের চা শিল্পে এখনও এর রেশ রয়ে গেছে। চা শ্রমিকদের সরাসরি দাস বলা যাচ্ছে না কিন্তু তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর দায় সরকার, শিল্প মালিক, চা সংসদ, ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর।
তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের নিয়ে এসে চা-বাগানের কাজে লাগানো হয়েছিল। সেই থেকে ঐতিহ্যগতভাবে তারা বংশানুক্রমে চা বাগানে কাজ করেন। অনেক অব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও তারা সেখানে আছেন। কারণ এর বাইরে যাবার সুযোগ তাদের খুবই কম। তা সত্ত্বেও এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, যারা এই অঞ্চলে চা-শ্রমিক পরিবারের সদস্য, তাদের কেউ কেউ উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন। হাতেগোনা কয়েকজন আছেন গ্রাজুয়েট।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাধ্য করে আটকে রেখে কাউকে চা বাগানে শ্রমিকের কাজ করানো হয় না। আসলে তাদের যাবার কোনো জায়গা নেই।
ড. জামান বলেন, আগের তুলনায় চা বাগানে শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি ঘটলেও এখনো অন্যান্য সব শ্রম সেক্টরের তুলনায় তারা অনেক পিছিয়ে। তাদের মজুরি কাঠামো, অন্যান্য সুযোগ সুবিধা, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাও নাজুক।
২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত ওই গবেষণায় আইনি সীমাবদ্ধতা, বৈষম্যমূলক আইন ও নীতিমালা, চাকরি স্থায়ীকরণ, মজুরি কাঠামো, কাজের পরিবেশ, ছুটি ও উৎসব ভাতা, রেশন, আবাসন ও মেরামত, চিকিৎসা, শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষা, ভবিষ্যৎ তহবিল, ক্ষতিপূরণ, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ এবং অধিদফতরের দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতিসহ সার্বিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
প্রোগ্রাম ম্যানেজার দিপু রায়, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা ও রবিউল ইসলাম গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
এ সময় টিআইবির উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (গবেষণা ও পলিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান, গবেষণা তত্ত্বাবধান ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ওয়াহিদ আলম উপস্থিত ছিলেন।

