ঢাকাWednesday , 31 October 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেয়র লোকমান হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার

Link Copied!

নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীর জনপ্রিয় পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মোবারক হোসেন মোবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকার ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রূপন কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০১১ সালের এই দিনে দলীয় কার্যালয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সাত বছর পর হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মোবারক হোসেন মোবাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রূপন কুমন সরকার বলেন, ‘মোবারক হোসেন মোবা নরসিংদীর প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তিনি ওই মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী ওই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। গত ২৫ অক্টোবর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন। এতদিন তিনি পলাতক অবস্থায় ছিলেন। নরসিংদীতে তার মালিকানাধীন একটি জমি বিক্রি করতেই তিনি দেশে এসে আত্মগোপনে ছিলেন। আমরা সবসময় তার ওপর নজরদারি রেখেছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
এসআই রূপন কুমন সরকার আরো বলেন, ‘মোবারক হোসেন মোবার সঙ্গে রেহানুল ইসলাম ভূইয়া লেলিন নামের আরেকজনকে আটক করা হয়েছে। তিনিও বিভিন্ন মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।’
মোবারক হোসেন মোবা মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ আগে দেশ ত্যাগ করেন। এতদিন তিনি মালয়েশিয়াতে পলাতক হিসেবে আত্মগোপনে ছিলেন।
২০১১ সালের ১ নভেম্বর পৌর মেয়র লোকমান হোসেনকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান বাদী হয়ে তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদের ছোট ভাই সালাহউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।
এর মধ্যে এক আসামি মোবারক হোসেন মোবা বিদেশে পলাতক ছিলেন। বাকি ১৩ জনের সবাই গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন। পুলিশ প্রায় আট মাস তদন্ত করে ২০১২ সালের ২৪ জুন সালাউদ্দিনসহ এজাহারভুক্ত ১১ আসামিকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেয়। নতুন অভিযোগপত্রে মামলার এজহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি শহর আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোবারক হোসেন, এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি নরসিংদী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আবদুল মতিন সরকার, তার ছোট ভাই শহর যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম সরকারসহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ২০১২ সালের ২৪ জুলাই নরসিংদীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে নারাজি দেন মামলার বাদী কামরুজ্জামান। আদালত ২৫ জুলাই নারাজি আবেদন খারিজ করে অভিযোগপত্র বহাল রাখেন। পরবর্তীকালে ২৮ আগস্ট নারাজি আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন বাদি। আদালত ২ সেপ্টেম্বর সেই আবেদন গ্রহণ করে ৪ নভেম্বর শুনানি শেষে ফের নারাজি আবেদন খারিজ করেন।
এরপর উচ্চ আদালতে যান বাদি। তিনি ওই অভিযোগপত্র বাতিল করে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মাধ্যমে আবার তদন্তের দাবি জানিয়ে নিম্ন আদালতে বিচারকার্য স্থগিত রাখতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। আদালত বাদির আবেদনটি আমলে নিয়ে নিম্ন আদালতে বিচারকার্য স্থগিত করে দেন।
প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের মেঝেরকান্দি গ্রামের শাহ্ নেওয়াজ ভূঁইয়ার ছেলে। কলেজ জীবন থেকেই জড়িয়ে পড়েছিলেন ছাত্ররাজনীতিতে। ২০০৪ সালে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন প্রথম পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন লোকমান হোসেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘদিনের অবহেলিত নরসিংদী পৌর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আবদুল মতিন সরকারকে ১৯ হাজার ৯০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন লোকমান হোসেন।
পৌরবাসীর প্রিয়জন লোকমান মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর অবহেলিত নরসিংদী পৌরসভাকে নতুন করে সাজিয়েছিলেন। শহরের সংকীর্ণ রাস্তাকে প্রশস্ত করা, নতুন রাস্তা নির্মাণ, নরসিংদীর অভিশাপ হিসেবে খ্যাত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পৌর ঈদগাহ ও শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা, নতুন বাস টার্মিনাল নির্মাণ, মোড়ে মোড়ে ভাস্কর্য স্থাপনসহ নানা উন্নয়ন করেছিলেন, যা নরসিংদীতে স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে উন্নয়নের মাইলফলক বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
মেয়র লোকমান নরসিংদী পৌরসভায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন কাজ করে শহরকে সুন্দর ও আধুনিক করে সাজিয়েছিলেন। ট্যাক্স আদায়ে সরকারের পৌরসভা পারফরম্যান্স রিভিউ কমিটির বিবেচনায় ২০০৬ সালে নরসিংদী পৌরসভা শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করেছিল। ২০০৮ সালে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বিবেচনায় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মেয়রের পুরস্কার লাভ করেন লোকমান। তিনি ঢাকা বিভাগীয় মেয়র সমিতির সভাপতিও ছিলেন।
দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাত্র আট মাসের মাথায় ২০১১ সালের ১ নভেম্বর সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন লোকমান।