ঢাকাMonday , 29 October 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও অচল সারা দেশ

Link Copied!

নিউজ ডেস্ক : পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে আজ সোমবারও সারা দেশে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের গণপরিবহন। ফলে অচল হয়ে রয়েছে গোটা দেশ। সাধারণ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ চলছেই।
সংসদে সদ্য পাস হওয়া পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা টানা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ধর্মঘট শুরু হয়েছে রোববার সকাল ৬টা থেকে। চলবে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত।
শ্রমিকদের আট দফা দাবি হচ্ছে- সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে, শ্রমিকদের অর্থদণ্ড পাঁচ লাখ টাকা করা যাবে না, সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে, ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে, ওয়ে স্কেলে (ট্রাক ওজন স্কেল) জরিমানা কমানোসহ শাস্তি বাতিল করতে হবে, সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, সব জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপক হারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে এবং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।
বরিশাল প্রতিনিধি জানান, সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালে সোমবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট পালন করছে বাসচালক ও শ্রমিকরা।
সকাল থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় নথুলাবাদ ও রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ এবং দূর পাল্লার রুটের কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। তাই আজও চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। এ ছাড়া, বরিশাল নগরীতে থ্রি হুইলার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় এই ভোগান্তি আরো কয়েক গুণ বেড়েছে।
শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে যে আইন করা হয়েছে তা সংশোধন করার আহ্বান জানানো হয় ধর্মঘট থেকে।
রিকশা চলাচল করলেও ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করার কারণে আরো ভোগান্তি বেড়েছে। আজও অনেককে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
বরিশাল জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলছেন, ‘গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে পাশ হওয়া সড়ক পরিবহন আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় অপরাধী হলে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত রাখা হয়েছে। এই আইন শ্রমিকদের রক্ষা বা স্বার্থের পরিপন্থি। ফাঁসির ঝুঁকি নিয়ে কোনো শ্রমিকই গাড়ি চালাতে পারবে না। এ কারণে এই আইন বাতিল না হলে পরবর্তীকালে আরো কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
টাঙ্গাইলের প্রতিনিধি জানান, সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে পরিহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি।
দ্বিতীয় দিনে সোমবার সকাল থেকেই টাঙ্গাইলের ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কসহ অভ্যন্তরীণ ১১ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার সাথে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাস্তায় চলাচলকারী যাত্রীরা। তাদের পায়ে হেঁটে ও তিন চাকার যানে চড়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বাস না চলায় যাত্রীদের ভোগান্তিকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে সিএনজি ও লেগুনা চালকরা।
মহাসড়কে বাস চলাচল না করায় যাত্রীরা ভিড় জমাচ্ছে রেল স্টেশনে। তবে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোমবার সকাল থেকেই বাস, কোচ ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে টাঙ্গাইলের সাথে ঢাকাসহ সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একইসাথে জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কেও বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও সারা দেশের সঙ্গে বাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সারা দেশের ন্যায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলেও আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে। এতে করে টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কসহ অভ্যন্তরীণ ১১ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হলে পরবর্তীকালে আরো কঠোর আন্দোলন করা হবে।’
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লায় দ্বিতীয় দিনের মতো পালিত হচ্ছে পরিবহন ধর্মঘট। কুমিল্লা জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে সারা দেশের সাথে কুমিল্লায়ও একযোগে পালিত হচ্ছে তিন দিনের এ পরিবহন ধর্মঘট।
সোমবার সকালে শ্রমিক ধর্মঘট উপলক্ষে কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা, চকবাজার, টমসম ব্রিজ ও জাঙ্গালিয়া বাস টর্মিনালসহ জেলার কোনো টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়নি কোনো যাত্রীবাহী বাস। এমনকি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, অটো থ্রি-হুইলার থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী পরিবহনও বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফাঁকা রয়েছে।
সোমবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা আলেখারচর, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় সড়কে যান চলাচলে বাধা দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। এ সময় মহাসড়কের ওপর তারা বিক্ষোভ করে। আট দফা দাবি মানা না হলে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।
যানবাহন না চলায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। যাত্রীরা বলছেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে দেশের পণ্যসামগ্রীর মূল্যও বৃদ্ধি পাবে।’
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে গোপালগঞ্জে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসহ অভ্যন্তরীণ ১৬ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে গোপালগঞ্জের সাথে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, মাদারীপুরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটেও সকল যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া পণ্য পরিবহন ট্রাক চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
ধর্মঘটের ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প উপায়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পারলেও রিকশা, অটোরিকশায় নেওয়া হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে।
গোপালগঞ্জ মোটর বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাসু শেখ বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ জামিন অযোগ্য যে ধারাটি রয়েছে তা শ্রমিক স্বার্থের পরিপন্থি। কারণ কেউ ইচ্ছে করে কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে চায় না। তাই এসব ধারাগুলো পরিবর্তন করার দাবি জানাচ্ছি। আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে। পরবর্তীকালে কেন্দ্র থেকে কোনো কর্মসূচি আসলে তা পালন করা হবে।’