টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : উজাড় হয়ে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের সখিপুরের ঐতিহ্যবাহী শাল-গজারির বন। গহিন বনে করাতকল বসিয়ে দিনের বেলায় কেটে ট্রাক ও ট্রলিতে করে পাচার হচ্ছে রাতের বেলায়।
সর্বশেষ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ফরিয়া সিনেমা হলের সামনে থেকে বুধবার ভোরেও ১৫০ পিস শাল গজারি গাছ ভর্তি ট্রাক আটক করেছে টাঙ্গাইল বন বিভাগের কর্মকর্তারা। এসময় প্রাইভেটকারসহ আরো ৭ জনকেও আটক করা হয়।
আটককৃতরা হচ্ছেন সখিপুর থানার ঝনঝনিয়া গ্রামের মৃত আ. গফুর মিয়ার ছেলে রিপন হাজী (৫০), বেতুয়া গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে আ. হামিদ (৫০), কচুয়া গ্রামের মৃত মফিজ খানের ছেলে জুলহাস খান (৪৫), কামাল হোসেনের ছেলে সিরাজ (২৮), আব্দুল মালেকের ছেলে শফিকুল (২৫), বাসাইল উপজেলার ফুলকি গ্রামের রতন দাসের ছেলে দীপক দাস (৩০), নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার এনায়েত নগর গ্রামের মৃত সুলতান খানের ছেলে অহিদুল ইসলাম (৩৮)।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ খান জানান, ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে ট্রাক ও প্রাইভেটকার জব্দ করে নিয়মিত মামলা রুজু করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, এক শ্রেণির ব্যাবসায়ীদের চাহিদা মেটাতে শাল-গজারির বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। শাল-গজারির মূল গাছ দিয়ে ঠিকাদারদের বল্লি কাঠ, ডালপালা দিয়ে জ্বালানির লাকড়ি বানানো, মুথা উপড়ে আগুনে পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে। বড় আকারের শাল-গজারি করাতকলে অবাধে চেরাই করে তা রাজধানী ঢাকা, নরসিংদী, জামালপুরসহ সারাদেশে পাচার করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের সখিপুরের ঐতিহ্যবাহী শাল-গজারির বন আজ প্রায় ধ্বংসের পথে। শাল-গজারি বন বিলীন হওয়ার সাথে সাথে বিলীন হচ্ছে শিয়াল, খেঁকশিয়াল, সজারু, বনবিড়াল, কাঠবিড়ালিসহ নানা প্রজাতির বণ্যপ্রাণী, পাখপাখালি, কীটপতঙ্গের অস্তিত্বও বিলীন হচ্ছে।

