নিজস্ব প্রতিবেদক : বাম গণতান্ত্রিক জোটের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটের দিকে রাজধানীর শাহবাগ থেকে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার সময় কারওয়ান বাজার মোড়ে তাদের বাধা দেওয়া হয়।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বাম নেতাদের হাতাহাতি হয়। এতে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ও ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফাসহ অনেকে আহত হন।
ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভ দেব বলেন, দুপুরে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করতে মিছিল নিয়ে যাত্রা করা হয়। প্রেসক্লাব থেকে শাহবাগ হয়ে কারওয়ান বাজার মোড়ে গেলে মিছিল পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এ সময় পুলিশ নেতাকর্মীদের লাঠিচার্জ করে। এতে জোনায়েদ সাকি, গোলাম মোস্তফাসহ অনেকে আহত হন।
জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আজ নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল বাম গণতান্ত্রিক জোটের। সে লক্ষ্যে বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন নেতারা।
পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে রওয়ানা হন নেতারা। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। আহত হন জোনায়েদ সাকি।
এর আগে প্রেসক্লাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বাম জোটের নেতা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সংসদ ভেঙে দিয়ে তদারকি সরকার গঠন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। জনগণ যেন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে নির্ভয়ে দিতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান, জুনায়েদ সাকি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে ‘নিরপেক্ষ তদারকি সরকার’ গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ ১০ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।
ইভিএম চালু ও ডিজিটাল ভোট ডাকাতির পাঁয়তারা বন্ধ করা, প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা ও নির্বাচনী ব্যয় ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করে কঠোরভাবে তা মেনে চলতে বাধ্য করা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান চালু করা, ভোটার ইচ্ছায় জনপ্রতিনিধি প্রত্যাহার করা, ‘না’ ভোটের বিধান চালু করা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সইয়ের বিধান বাতিল করা প্রভৃতি রয়েছে বাম জোটের অন্য দাবির মধ্যে।

