নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষিবিদ মো. আল-মামুন জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে উচ্চ শিক্ষার জন্য মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন। দেশটির সেলানগরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়ার স্কুল অব গ্রাজ্যুয়েট স্টাডিজ-এ তিনি তার পিএইচডি গবেষণা সম্পন্ন করবেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি)-২ (বিএআরসি) কর্তৃক বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন। আগামীকাল ৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশত্যাগ করবেন তিনি।
মো. আল-মামুন ২০০৪ সাল থেকে বিজ্ঞানী হিসাবে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ( বিজেআরআই)-এ কর্মরত। তিনি পাট ও কৃষি সেক্টরে যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে বিশেষ করে একজন সফল প্রজননবিদ হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তার প্রজ্ঞা ও গবেষণার আলোকে ২০১৭ সালে বিজেআরআই কেনাফ-৪ (লাল কেনাফ) এবং বিজেআরআই মেস্তা-৩ (মসৃণ মেস্তা) নামে দু’টি নতুন জাত বিজেআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত হয়েছে, যা এ পর্যন্ত উদ্ভাবিত জাতসমূহ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং পূবের্র জাতগুলো থেকে কৃষকের নিকট অধিক পছন্দের।
প্রজনন বিভাগের জাত উন্নয়ন ও বীজ গবেষণায় উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি কৃষিবিদ মামুন একজন লেখক ও প্রাবন্ধিক। তার প্রকাশিত জনপ্রিয় কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধের সংখ্যা ত্রিশের উপরে। তিনি জাতীয় দৈনিক ছাড়াও মাসিক কৃষিকথা, কৃষিকাগজ ও উন্নয়ন বিতর্কসহ বিভিন্ন জার্নালের নিয়মিত লেখক। দেশে বিদেশে তার প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ২০টি এবং প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২টি। তিনি একজন সংগঠকও; অনেক সোসাইটি এবং পেশাজীবী সমিতির সদস্য। তিনি ২০০৭-০৮ সালে লিও জেলা ৩১৫বি১ এর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
কৃষিবিদ মো. আল-মামুন বরগুনা জেলার বামনা উপজেলায় ১৯৭৯ সালে জম্মগ্রহণ করেন। আলহাজ্ব মো. আশ্রাফ আলী হাওলাদার এবং মিসেস সেলিনা বেগমের মেজো সন্তান তিনি। শান্ত, সরল ও সদালাপি তরুন এ বিজ্ঞানী শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৪ সালে বিএসসি এজি (অনার্স) এবং ২০০৮ সালে কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিষয়ে এমএস ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক। সহধর্মিনী মিসেস কামরুন্নাহার কৃষিবিদ মামুনের অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস। গবেষক, লেখক ও প্রাবন্ধিক কৃষিবিদ মো. আল-মামুনের সুদীর্ঘ জীবন ও মঙ্গল কামনা করেছেন তার সহকর্মীরা।

