স্পোর্টস ডেস্ক : দুই বছর আগে লিওনেল মেসির দিকে যে তীর ছুড়েছিলেন, সেই তীর ফিরে এসে এবার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর নিজের গায়েই লাগল। বলতে পারেন, রোনালদো নিজেই দৌড়ে গিয়ে নিজের গায়ে লাগালেন মেসিকে লক্ষ্য করে ছোড়া সেই তীর। একেই বলে নিয়তির খেলা!
২০১৬ সালের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের (দ্য বেস্ট) পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় মেসির কড়া সমালোচনা করেছিলেন রোনালদো। দুই বছর পর নিজের সেই তীর রোনালদোর বুকে এসেই বিঁধল। কারণ, পুরস্কার পাবেন না জেনে গত বৃহস্পতিবার রোনালদো নিজেও মোনাকোর উয়েফার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যাননি।
২০১৬ সালে ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার প্রাপ্তির দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদোর তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে ছিলেন মেসি। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা আগেই বুঝে গিয়েছিলেন, পুরস্কারটা তিনি পাবেন না। ওটা পাবেন রোনালদোই। তাই ফিফার ওই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠাননি যাননি মেসি।
শুধু মেসি একা নন। বার্সেলোনার অন্য তারকা খেলোয়াড়ে যেমন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জেরার্ড পিকে, লুইস সুয়ারেজরাও সেদিন পুরস্কার অনুষ্ঠানে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন। পূর্ব ধারণা মতো পুরস্কারটা শেষ পর্যন্ত রোনালদোর হাতেই উঠে।
আর পুরস্কার পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের কড়া সমালোচনা করেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। তবে তার সমালোচনার আসল লক্ষ্য ছিলেন মেসিই। তখন রোনালদো নিশ্চয় স্বপ্নেও ভাবেননি, অন্যদের সমালোচনা করে বলা কথাগুলো একদিন তাকেই হজম করতে হবে!
তা মেসি তথা বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্য করে কি বলেছিলেন রোনালদো? বলেছিলেন, ‘আমি দুঃখিত যে, বার্সেলোনার কিছু মানুষ আজ এখানে আমাদের সঙ্গে নেই। কেন নেই, এটা আমার বোধগম্য নয়। উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ।’ দুই বাক্যের এই সমালোচনা হয়তো মেসির গায়ে কাটা হয়েই বিঁধেছিল সেদিন।
দুই বছর পর নিজের সেই কথার জালেই বিদ্ধ রোনালদো। মেসি যেমন আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন বলে পুরস্কার অনুষ্ঠানে যাননি, বৃহস্পতিবার রোনালদো নিজেও করেছেন সেই কাজটাই। উয়েফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার প্রাপ্তির দৌড়ে তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন। মোনাকোর অনুষ্ঠানে যাওয়ার সব প্রস্তুতিও সেরে ফেলেছিলেন।
অপেক্ষা করছিলেন বিমানে চগে বসার। ঠিক তখনই ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর ফোনে জানতে পারেন, বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের আসল পুরস্কারটা তিনি পাচ্ছেন না। সেটা পেতে যাচ্ছে তারই সাবেক সতীর্থ, রিয়াল মাদ্রিদের ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার লুকা মড্রিচ। ব্যস, খবরটি পাওয়ার পর রাগে-দুঃখে-ক্ষোভে মোনাকো যাত্রা বাতিল করেন রোনালদো। কাছে থাকা বন্ধুরা নাকি তাকে বারবার অনুরোধও করে অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য। কিন্তু রোনালদো সেই অনুরোধে কান দেননি।
তবে রোনালদোর ভাগ্য ভালো, এই গোস্যা করে না যাওয়ার জন্য কেউ তার সমালোচনা করেননি। কে করবেন সমালোচনা! পুরস্কারটা তো পেয়েছেন তারই সাবেক বন্ধু। মড্রিচ না জিতে পুরস্কারটা যদি মেসি জিততে পারতেন, নিশ্চিতভাবেই রোনালদোর দিকে পাল্টা তীর ছুড়ে আসত।
তবে চাইলে মেসি এমনিতেও চিরশত্রুকে কথাটা ফিরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তা করার দরকারিই বা কি! নিজের বলা কথাগুলোই তো রোনালদোকে উপহাস করছে!

