নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মালিকানাধীন ’সীমান্ত ব্যাংক’ তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করেছে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানার সীমান্ত স্কয়ারে ইমানুয়েল কনভেনশন সেন্টারে ব্যাংকের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাহিনীর সদস্যদের ভাগ্যোন্নয়ন ও গ্রামীণ, সীমান্তবর্তী মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাবে সীমান্ত ব্যাংক।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুখলেসুর রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী মানুষের অধিকাংশই অভাবী। তাদের অনেকেই চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন। যা সীমান্ত সুরক্ষার পথে অন্যতম সমস্যাও। সীমান্তবর্তী মানুষের ভাগ্যের বদল, দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সীমান্ত ব্যাংক।
ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুখলেসুর রহমান বলেন, সীমান্ত ব্যাংক আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবাকে প্রান্তিক সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় পৌঁছে দিচ্ছে এবং এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। গ্রামীণ অর্থনীতি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের জন্যই ‘এসএমবিএল দিশারী’ এবং ‘এমএমবিএল কৃষিঋণ’ নিয়ে সীমান্ত ব্যাংক পৌঁছে গেছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সন্নিকটে।
এক প্রশ্নের জবাবে মুখলেসুর রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরো ৩০টি শাখা খোলা। যেখানে গ্রামীণ এলাকায় শাখাও থাকবে। আমরা অ্যাগ্রেসিভ ব্যাংকিং বাদ দিয়ে প্রোগ্রেসিভ ব্যাংকিংয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। যে কারণে গত দুই বছরে আমাদের কোনো খেলাপি ঋণ নেই। আগামীতে যাতে খেলাপি ঋণের সুযোগ তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
সীমান্ত ব্যাংক পার্সোনাল লোন, সীমান্ত নিবাস (হোম লোন), কার লোন, এসএমই লোন আস্থা, দিশারী, কৃষিঋণ, সীমান্ত স্টুডেন্ট ব্যাংকিং, সীমান্ত ডিপিএস, ভিসা ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড, বিজিবি পে রোল ক্রেডিট কার্ড, সীমান্ত ডুয়েল কারেন্সি গোল্ড ক্রেডিট কার্ড, সীমান্ত ডুয়েল কারেন্সি ক্লাসিক ক্রেডিট কার্ড সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সীমান্ত ব্যাংক ইতোমধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং আরটিজিএস, বিএফটিএন, আরআইএ এবং ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে রেমিটেন্স সেবাসহ নানা রকম আধুনিক সেবা চালু করেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ব্যাংকটির চিফ অপারেটিং অফিসার রফিকুল ইসলাম, এইচআর হেড এ কে এম রব্বানী, জিএসএসডি আলিম হোসেন খান, রিটেইল অ্যান্ড এসএমই বিভাগের প্রধান আনোয়ার ফারুক তালুকদার।
‘সীমাহীন আস্থা’ স্লোগান নিয়ে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর চালু হয় সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড। গত দুই বছরে ব্যাংকের শাখা স্থাপিত হয়েছে ১৩টি। এরমধ্যে ঢাকায় দুটি, চট্টগ্রামে ছয়টি, ময়মনসিংহে দুটি, খুলনা, রংপুর ও সিলেট বিভাগে একটি করে শাখা রয়েছে।

