বিনোদন প্রতিবেদক : বাংলা গানের কিংবদন্তি, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার। আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।
এদিকে আব্দুল জব্বারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তাকে নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ম্যাজিশিয়ান’স ফেডারেশন অব বাংলাদেশ। এ আলোচনায় অংশ নেন শিল্পী আবদুল জব্বারের স্ত্রী হালিমা জব্বার, তার কন্যা জেসমিন জব্বার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, কবি কাজী রোজী, শিল্পী খুরশিদ আলম প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম এ রব। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ রানা।
আব্দুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার গান গাওয়া শুরু ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে। প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন তিনি ১৯৬২ সালে। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সংগম’র গানে কণ্ঠ দেন তিনি। এরপর ১৯৬৮ সালে এতটুকু আশা ছবিতে সত্য সাহার সুরে তার গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৭৮ সালে সারেং বৌ ছবিতে আলম খানের সুরে তার গাওয়া ‘ও..রে নীল দরিয়া’ গানটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা জোগাতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অসংখ্য গানে কণ্ঠ দেন।তার গানে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আব্দুল জব্বার হারমোনিয়াম নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ক্যাম্পে গিয়ে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেন।১৯৭১ সালে তিনি মুম্বাইয়ে ভারতের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জনমত তৈরিতেও নিরলসভাবে কাজ করেন।তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে সেসময় বিভিন্ন সময় গণসংগীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ রুপি দান করেছিলেন।সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮০ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান।
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, হার্ট, প্রস্টেট ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগে ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

