
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক : গোপালগঞ্জে নিজের মায়ের নামের চোখের হাসপাতাল অধীনে কমিউনিটি ভিশন সেন্টার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের সেবা করা তার সরকারের প্রধান কাজ।
গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এবং গোপালগঞ্জের পাশের আট জেলার ২০টি উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টারেরও উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রোগীদের চোখের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গোপালগঞ্জে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
হাসপাতাল স্থাপিত টেলিকনসালটেশনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চোখের চিকিৎসকরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কমিউনিটি ভিশন সেন্টারে রোগীদের চিকিৎসা ও পরামর্শ দেবেন।
পর্যায়ক্রমে সব জেলায় চোখের চিকিৎসার জন্য ক্যাম্প করারও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মানুষের সেবা করাটাই আমাদের কাজ। ক্ষমতা আমার কাছে কোনো ভোগের বস্তু না। ক্ষমতা হচ্ছে; দায়িত্ব পালন।
কাজেই দায়িত্বটাই পালন করতে চাই। আমি সব সময় এটা মনে রাখি; আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই জনগণের সেবা করাটা হচ্ছে; আমার প্রথম কর্তব্য।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের জন্য একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণাও দেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আমরা একটা আলাদা ফান্ড তৈরি করে দেব। যে ফান্ড থাকবে একেবারে হতদরিদ্র মানুষ..তারা যেন বিনে পয়সায় চিকিৎসাটা পায়।
শুধুমাত্র চক্ষু বিষয়ে সমগ্র বাংলাদেশে এই চিকিৎসাটা দেওয়া হবে। এই টাকার সুদ দিয়ে হতদরিদ্ররা চিকিৎসা সেবা পাবে।
প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে একটি করে মেডিকেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই; বিভাগীয় শহরগুলোতে একটা করে মেডিকেল বিশ্ববদ্যিালয় করে দেবো। সেই সাথে মেডিকেল কলেজ আমরা করে দিচ্ছি।
সকল জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসা সেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া কেবল হাসপাতাল করে ছেড়ে দেওয়া না।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির ওপর গুরুত্বরোপ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, চোখ, কান, নাক.. প্রতিটি ক্ষেত্রেই যাত বিশেষজ্ঞ তৈরি হয়; তার ব্যবস্থা আমরা নেব।
ভিডিও কনফারেন্সে গোপালগঞ্জ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, গণভবন থেকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ডা.সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া ও কোটালিপাড়া, বাগেরহাটের ফকিরহাট এবং নড়াইলের লোহাগড়ায় সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

