নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্যাগের মহিমায় সারাদেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা।বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার পাশাপাশি যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। যুগ যুগ ধরে এই ঈদ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর করে আসছে। পবিত্র এই দিনে পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি খুঁজছেন মুসলমানরা। এছাড়া ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদের জামাত বুধবার সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের লাখো মানুষ নামাজ আদায় করেন।
বিভেদ ভুলে সব বয়সের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন ঈদ জামাতে। সমাজের নানা মত-পথ আর শ্রেণি বৈষম্য ঘুচিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে যান এক কাতারে।
নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত সবার সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ এহ্সানুল হক। নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এর আগে সকালে নামাজিরা লাইন ধরে নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশ করেন। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের ৫ হাজার নারীসহ একসঙ্গে প্রায় এক লাখ মুসল্লির ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
ডিএনসিসি ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের এক সাথে ১৫০জন পুরুষের ওযুর ব্যবস্থা করে। একইভাবে এক সাথে ৫০জন নারী মুসল্লিরও ওযুর ব্যবস্থা করে।
জাতীয় ঈদগাহের পাশাপাশি ঈদের নামাজ পড়তে বিভিন্ন মসজিদ, ঈদগাহ ও খোলা মাঠে জমায়েত হন বিপুল সংখ্যক মানুষ। প্রতিবারের মতো এবারও সকাল ৭টায় ঈদ জামাত শুরু হয় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে।
সেখানেও ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। আর দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ। পর্যায়ক্রমে মোট ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করছেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা।
উল্লেখ্য, প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)’কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.) এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়।
হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর সেই ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকে।
আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। তাই ধর্মীয়ভাবে কোরবানি করাই এ দিনের উত্তম ইবাদত।
দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে। ঈদের দিন সরকারিভাবে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু সদনে উন্নত বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।
ঈদের জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে।

