ঢাকাFriday , 3 August 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সারা দেশে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে মালিক সমিতি

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারা দেশে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে বাস মালিক ও শ্রমিক সমিতি। এ কারণে রাজধানীর সঙ্গে সারা দেশের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাস মালিকরা বলছেন, সড়কে ভাঙচুরের কারণে পরিবহণ শ্রমিকরা বাস চালাতে চাইছেন না।
শুক্রবার সড়কে পরিবহন মালিক কিংবা শ্রমিক সংগঠনগুলোর কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ কারণে সারা দেশে জনদুর্ভোগ চলছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, ছাত্ররা বাস ভাঙচুর করছে এজন্য বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে শুক্রবার ঢাকার রাস্তায় দু-একটি বাস ছাড়া কোনো গাড়ি দেখা যায়নি। এর ফলে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যাত্রীবাহী বাস নেই বললেই চলে। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস চলাচল করছে। উত্তরা, প্রগতি সরণী, বাড্ডা, রামপুরা, মিরপুর রোড, সাতমসজিদ রোড, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।
কুমিল্লা : শুক্রবার সকাল থেকে কুমিল্লা থেকে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবং সিলেটসহ জেলার ২০টি সড়ক ও মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলা পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. তাজুল ইসলাম জানান, যানবাহনের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কুমিল্লা থেকে কোন পরিবহন ছেড়ে যায়নি।  যাত্রীরা অভিযোগ করে জানান, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মালিক-শ্রমিকরা যে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, এতে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছে।
সিলেট: সিলেটে সকাল থেকে পরিবহন সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। দু’একটি সিএনজি অটোরিক্সা নগরীতে চলাচল করলেও শ্রমিকরা বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে সেগুলো আটকে দিচ্ছেন। নগরীর দক্ষিণ সুরমার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কুমারগাঁও বাসস্টেশন থেকেও বাস ছাড়েনি।
সিলেট সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক জানান, ছাত্রদের আন্দোলনের কারণে সড়কে নিরাপত্তা নেই। বাস ভাঙচুর করা হলে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। তাই অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া থেকে রাজধানীমুখী দুরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। ঢাকাগামী জেআর পরিবহনের কুষ্টিয়া কাউন্টার মাস্টার মিন্টু জানান, সকাল থেকেই কুষ্টিয়া থেকে কোন গাড়ি ঢাকার উদ্যোশ্যে ছেড়ে যায়নি। সারা দেশে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলনের চলছে চালকরা নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে না।
তিনি আরো জানান, দিনে গাড়ি না চললেও রাতে যদি কোনো সুযোগ সৃষ্টি হয় তবে গাড়ি চলবে। কুষ্টিয়া-মেহেরপুর, কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া-পাবনা সড়কে জেলা ও আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস চলাচল করলেও বেলা সাড়ে ১২টা থেকে বন্ধ করে দিয়েছে চালকরা।
রংপুর: নগরীর কামারপাড়া ঢাকা বাস স্ট্যান্ড, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কুড়িগ্রাম ও সাতমাথা বাস স্টান্ড ঘুরে দেখা গেছে,আন্তঃজেলাসহ দূরপাল্লার সকল বাসচলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি আবু আজগর আহমেদ পিন্টু জানান , বাস বন্ধের ব্যাপারে আমাদের সমিতির সঙ্গে কেউ কথা বলেনি। তবে আমরাধারণা করছি, নিরাপত্তাজনিত কারণেই হয়তো চালকরা বাস চালাচ্ছেন না। রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ বলেন, আমিও জানিনা কাদের নির্দেশে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
ঢাকা-রংপুর চলাচলকারি এস অর পরিবহনের চালক খাদেমুল বলেন, বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে রংপুর আসার পথে বগুড়ায় বাসে আগুন দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল। অনুরোধ করে রক্ষা পেয়েছি। পথে নিরাপত্তা নাই। যে কারণে বাস চালাচ্ছি না।
নগরীর কামারপাড়া ঢাকাগামী বাসস্ট্যান্ডে বাসের অপেক্ষায় থাকা তাজমিলুর রহমান বলেন, চাকরির ইন্টারভিউ দিতে সকাল ৯টার বাসে ঢাকা যাব বলে বৃহস্পতিবার টিকেট করেছি। স্ট্যান্ডে এসে জানতে পারলাম বাস চলছে না। বন্ধ রাখার কারণও কেউ স্পষ্ট করে বলছে না। ফলে চাকরির পরীক্ষা দেওয়া আর হচ্ছে না।