বিনোদন ডেস্ক : হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার জীবন-নির্ভর একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এই সিনেমাটি পরিচালনার জন্য ভারতের বরেণ্য পরিচালক শ্যাম বেনেগাল, গৌতম ঘোষ ও কৌশিক গাঙ্গুলির নাম বাংলাদেশের কাছে প্রস্তাব করেছে ভারত। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে খবরও প্রকাশ করে দেশের সংবাদমাধ্যম।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত হবে চলচ্চিত্র কিন্তু সেটি ভারতের নির্মাতা কেন নির্মাণ করবেন সেই প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশের অনেক নির্মাতা। যদিও চলচ্চিত্রটি কে নির্মাণ করবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নির্মাণ প্রসঙ্গে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন বরেণ্য পরিচালক শ্যাম বেনেগাল, গৌতম ঘোষ ও কৌশিক গাঙ্গুলি। এই তিন পরিচালকের বক্তব্য তুলে ধরা হলো।
শ্যাম বেনেগাল : বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সিনেমাটি কে নির্মাণ করবেন তা আসলে বাংলাদেশের ওপরই নির্ভর করে। আমাদের উপমহাদেশে এসব জিনিস নিয়ে সব সময়ই সমস্যা হয়। খুব বোকার মতো শোনাবে যদি আমি বলি, বঙ্গবন্ধুর ওপর সিনেমা বানানোর জন্য আমিই সেরা লোক। বরং ঘটনা হলো, প্রস্তাবটা আমার কাছে এসেছে। তবে আমি নিশ্চিত এই সিনেমা বানানোর মতো দক্ষ লোকজন নিশ্চয়ই ওখানেও আছেন!
গৌতম ঘোষ : হ্যাঁ, আমি একমত যে এটা বাংলাদেশের একটা তীব্র আবেগের জায়গা। সে ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একজন পরিচালকও এই প্রজেক্টে থাকলে আমার মতে সবচেয়ে ভালো। তবে আমি এটাও মনে করিয়ে দিতে চাই, গান্ধীকে নিয়ে সেরা সিনেমাটা কিন্তু একজন বিদেশি-ই বানিয়েছেন (অ্যাটেনবরো)।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যখন হয়, তখন আমার বয়স একুশ কী বাইশ। টগবগে তরুণ, যুদ্ধের উত্তেজনায় আমিও ফুটছিলাম। আজ এতদিন পর সেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সিনেমা করার সময় আমার কথা ভাবা হচ্ছে, এটাই তো দারুণ ব্যাপার।
কৌশিক গাঙ্গুলি : এগুলো আসলে ভাগাভাগির জিনিস না। রবীন্দ্রনাথ-নজরুলকে তো আমরা ভাগ করিনি, গান-বাজনা-শিল্পী-গুণীজন-মহান ব্যক্তিত্বদের ভাগাভাগি হয় না, তারা কখনো একটা দেশেরও হন না। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতও তো রবীন্দ্রনাথেরই লেখা, তার বেলায়? বাংলাদেশের বরং আনন্দিত হওয়া উচিত তাদের জাতীয় নায়ককে নিয়ে একজন ভারতীয় সিনেমা বানাচ্ছেন।
আমরা এমন একটা জায়গায় থাকি যেখান থেকে মাত্র দুই আড়াই ঘণ্টার পথ পেরুলেই আর একটা আলাদা দেশ শুরু হয়ে যায়। আমার শৈশবেই সে দেশটা ভাগ হয়েছিল। আর আজ সেই দেশের জন্ম যার হাতে, তাকে নিয়ে সিনেমা বানাতে পারলে আমি যে অসম্ভব সম্মানিত বোধ করব, তা বলার অপেক্ষা রাখে?
বঙ্গবন্ধুর এই বায়োপিকের কাজ যেন দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে গত ১২ জুলাই সকালে দিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর ওপর কাহিনিচিত্রটি ২০২০ সালের ১৭ মার্চ তার জন্মশতবার্ষিকীর ঠিক আগেই মুক্তি পাবে বলে জানা যায়।

