ঢাকাSaturday , 28 July 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকায় পাতাল, আন্তঃনগরে বুলেট ট্রেনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে যাতায়াত সহজ করতে দুই রুটে পাতাল এবং উড়াল রেল চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে রাজধানীর আশেপাশে তিনি ছোট ছোট শহর গড়ে তুলতে চান। আর যাতায়াতব্যবস্থা এমন চান যেখানে ওই শহরগুলোর বাসিন্দারা প্রতিদিন ঢাকায় একে কাজ করে ফিরে যাবে, কিন্তু তাদের ঢাকায় থাকতে হবে না।
ঢাকায় পাতাল রেল দুটি হবে বিমানবন্দর থেকে মতিঝিল এবং সাভারের হেমায়েতপুর থেকে মিরপুর, গুলশান হয়ে ভাটারা রুটে।
শনিবার বিকালে হাতিরঝিল লাগোয়া বাড্ডায় ইউলুপ চালু করে দেয়া বক্তব্যে এই পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, শহরে মানুষের চাপ কমাতে তিনি এসব প্রকল্প হাতে নিয়েছেন।
৩৩ কোটি টাকায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সেনাবাহিনী। এরে আগে রামপুরায় একটি ইউলুপ উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রগতি সরনি দিয়ে হাতিরঝিলে আসা গাড়িগুলোকে আর কোথাও থেমে থাকতে হয় না। বাড্ডা ইউলুপ চালু হয়ে যাওয়ায় এবার হাতিরঝিল থেকে রামপুরাগামী গাড়িগুলোতেও আর কোথাও না থেমে এই স্থাপন হয়ে চলাচল করতে পারবে।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধানমন্ত্রী নৌকা মার্কায় ভোটও চান। বলেন, জনগণে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিল বলেই তিনি জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন। আর একটানা দুইবার ক্ষমতায় থাকার ফলেই উন্নয়নের কাজগুলো শেষ করতে পারছেন।
‘নৌকা মার্কায় ভোট দিলে কেউ বঞ্চিত হয় না। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে স্বাধীনাতা যেমন পেয়েছেন, উন্নয়নও পাবেন, মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারও পেয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে রাজধানীর যানজট নিরসনে এবং সারাদেশে যাতায়াত আরও সহজ করতে তার নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোতে দ্রুত যাতায়াতের জন্য বুলেট ট্রেন ও বিমান পরিবহনকে উন্নীত করার ঘোষণা দেন।
*ঢাকায় দুই রুটে পাতাল রেল : প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ঢাকায় বিজয়সরণী ফ্লাইওভার, জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, কুড়িল ফ্লাইওভার, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে ও এক্সপ্রেস রেলওয়ে নির্মাণেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
ঢাকা সার্কুলার রোড এবং ইস্টার্ন বাইপাস নির্মাণেরও উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এর সাথে সাথে এখন পরিকল্পনা নিয়েছি পুরো ঢাকা ফিরে একটা রিংরোড করব, সেটা হবে সম্পূর্ণভাবে এলিভেটেড রিং রোড। এটা রাস্তা দিয়ে যাবে না, ওপর দিয়েই যাবে।’
উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যযন্ত দেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৯ সালে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যযন্ত মেট্রোরেল চালু হবে। বাকি অংশ ২০২০ সালের মধ্যে চালু করব।’
গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের নির্মাণ কাজ চলার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা পাতাল রেলের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বলেন, ‘বিমানবন্দর হতে কমলাপুর পর্যন্ত ১৬.৪ কিলোমিটার পাতাল রেল এবং পূর্বাচল হতে কুড়িল পর্যন্ত ১০.২ কিলোমিটার উড়াল রেল নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।’
‘অর্থাৎ রেল এখন মাটির নিচ দিয়েও যাবে আবার ওপর দিয়েও যাবে। দুই দিক দিয়েই আমরা করছি।’
এর বাইরে সভারের হেমায়েতপুর থেকে গাবতলী, মিরপুর, গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যযন্ত ১৯.৬০ কিলোমিটার মেট্রোরেল লাইন-৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়েছে। এই লাইনেও শহর এলাকায় ১৩.৬০ কিলোমিটার যাবে মাটির নিচ দিয়ে।
*ঢাকার পাশে হবে উপশহর : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার আশেপাশে আমরা ছোট ছোট শহর গড়ে তুলব, যে শহরগুলো হবে একান্তভাবেই মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিং দিয়ে। …সেই ধরনের ছোট ছোট শহর গড়ে তুলব যাতে করে ঢাকা শহরে ভেতরে মানুষের বসবাস করার প্রয়োজন না হয়।’
‘ঢাকায় কমিউটার সিস্টেম থাকবে। ঢাকায় বসবাসের প্রয়োজন হবে না। বাইরে থেকে আসবে, ঢাকায় কাজ করবে দিনে, পরে স্বস্থানে ফিরে যাবে।’
ঢাকার পাশাপাশি গ্রাম এলাকাতেও শহরের আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘গ্রামের মানুষকে নাগরিক সুবিধাসহ প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করতে চাই।’
*আন্তঃনগরে বুলেট ট্রেন : ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেন এক ঘণ্টার মধ্যে যেন পৌঁছা যেতে পারে সে জন্য বুলেট ট্রেন করার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, এই ট্রেন হবে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-দিনাজপুর, ঢাকা-বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর, এমনকি ঢাকা থেকে কলকাতা পর্যন্ত। এতে ঢাকা-খুলনা রুটেও এই সুবিধা মিলবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম, মহাসড়ক শিগগির ছয় লেনে উন্নীত করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। দুই লেনের ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সম্প্রসারণ করেও সেটি ছয় লেনের হবে।
*নৌপথেও হবে উন্নত যোগাযোগ: ঢাকাকে ঘিরে চারটি নদী ব্যবহার করে নৌ যোগাযোগটাও উন্নত করবেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, নদীগুলো ড্রেজিং করে নাব্য ফিরিয়ে আনা, ছোট ছোট কতগুলো সেতুগুলো ভেঙে এমন করে দেয়া হবে যেন এর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল করতে পারে।
ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেও আরও উন্নত করার ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। জানান, হাতিরঝিলে লেকটি গুলশান বনানী হয়ে নদীর সঙ্গে সংযোগ করে দেবেন তিনি। এর জন্য খনন করা হবে খাল। এতে হাতিরঝিলের পানির প্রবাহটা আরও ভালো থাকবে।
ঢাকায় খাল বন্ধ করে বক্স কালভাভার্ট করে সড়ক নির্মাণেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এটা কোনো সমাধান নয়। এর ফলেও জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর আগামীতে সুযোগ পেলে পান্থপথ সড়ক কেটে আবার খাল উন্মুক্ত করে দেবেন। বলেন, ‘খালের ওপর দিয়ে ওপর দিয়ে এভিলেটেড রাস্তা করে দেব।’
ঢাকার পাশাপাশি দেশের সব নদী, লাখ, বিল, পুকুর সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণাও দেয়া হয়। যেগুলো নৌপথ, সেগুলো খনন করবে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, যেগুলো নৌ পথ নয়, সেগুলো খনন করবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় আর বাকিগুলো খনন করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
*উন্নয়ন হবে বিমান চলাচলও : সড়ক, নৌ ও রেলপথের পাশাপাশি বিমান চলাচলের উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে উন্নত করে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহারের ঘোষণা দেন তিনি। জানান, নেপাল, ভুটান, ভারত, ও ভারতের সাত প্রদেশ যেন এটি ব্যবহার করতে পরে, সে জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
রাজশাহী ও বরিশাল বিমানবন্দরগুলোও উন্নত করার পাশাপাশি কক্সবাজার বিমানবন্দরকে দেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণাও দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সে এয়ারপোর্টে সবচেয়ে বড় বড় প্লেন নামতে পারবে।’
‘আমরা যদি এই বিমানবন্দরকে উন্নত করতে পারি, তাহলে পাশ্চাত্য থেকে প্রাচ্যে যাতায়াতের যত প্লেন চলাচল করে, সেগুলোকে রি ফুয়েলিংয়ের জন্য একটা ঘাঁটি হবে কক্সবাজার এয়ারপোর্ট।’
এ জন্য রানওয়েগুলো আরও দীর্ঘ করে ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মিটার করে দেয়ার ঘোষণাও দেয়া হয় অনুষ্ঠানে।
এর আগে হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক আবু সাঈদ মো. মাসুদ ইউলুপ প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনে এই প্রকল্পটি উদাহরণ হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, সংসদ সদস্য রহমত উল্লাহ, সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ইউলুপ ধরে চলাচল করে এটি যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেন। আর তিনি অনুষ্ঠান শেষে সেখান থেকে চলে আসার পরই চলাচল শুরু হয়।