ঢাকাSaturday , 28 July 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিস্তায় বিলীন হতে চলেছে আনন্দলোক বিদ্যালয়

Link Copied!

রংপুর প্রতিনিধি : তিস্তার অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায় রংপুরের গঙ্গাচড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফা কামাল আনন্দলোক বিদ্যালয়ের ভবন।
বিদ্যালয়ের ল্যাট্রিন ও শ্রেণিকক্ষের অনেকাংশ তিস্তায় বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের ভবনটি কেবল জলমগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যে কোন মুহূর্তে তাও বিলীন হয়ে যেতে পারে।
শিক্ষার্থীদের পাঠ দান করা হচ্ছে খোলা মাঠে। ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনটি রক্ষার এবং ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০১৩ সালে গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা চরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফা কামাল আনন্দলোক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চরাঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠগ্রহণ করছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হচ্ছে। বিদ্যালয়টি স্থাপন হওয়ায় চরের শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
এবারে তিস্তার অব্যাহত ভাঙ্গনে বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গ্রেডবিম দিয়ে তৈরি চার কক্ষ বিশিষ্ট এ বিদ্যালয়ের ল্যাট্রিন ও শ্রেণিকক্ষের কিছু অংশ ইতোমধ্যে তিস্তায় বিলীন হয়ে গেছে। শুধু বিমের ওপর ভবনটি পানির মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। দুর থেকে দেখলে মনে হয় এটি পানির মধ্যে ভাসমান একটি ভবন।
বিদ্যালয়টি ভাঙনের পাশাপাশি ভেঙে গেছে অন্তত ৫০ জনের বাড়িঘর, জমি, গাছ, বাঁশ ও পাওয়ার প্লান্টের ঘর।
কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান ব্যাক্তিগতভাবে অর্থ, বালুর বস্তা দিয়ে সহযোগিতা করে ভাঙনের কবল থেকে বিদ্যালয়ের ভবনটি রক্ষার চেষ্টা করছেন। এছাড়া এলাকাবাসী, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকাতে দিন-রাত আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
উৎকন্ঠিত বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুলতানা বলল, ‘হামার স্কুলটাক বাঁচান। স্কুলটাত হামরা মেলা ছওয়া পড়াপড়ি। স্কুলের মাঝিয়া, পায়খানা ভাংগি গেইছে। খালি বিল্ডিংটা পানিত খাড়া আছে। স্যারেরা গাছের ছায়াত মাটিত বসে পড়ায় ছোল। ওটাও ভাংগি গেলে হামরা কোনটে পরমো।’
চতুর্থ শ্রেণির রায়হান, মেহেদী, মাসুদা আতিকা, সোহেল, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা, শারমিন, ওয়ালিদ- এদের মুখেও স্কুলটি রক্ষার দাবি। শিক্ষক মশিয়ার রহমান বলেন, ‘এ বিদ্যালয়ে ২০৪ শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয় রক্ষা করা না গেলে তাদের লেখাপড়া ভবিষ্যৎ কি হবে বলা মুশকিল। অতিকষ্টে খোলা মাঠে পাঠদান করা হচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের জমিদাতা কাজী আবু তালেব জানান, চরে অনেক শিশু রয়েছে কিন্তু সে অনুযায়ী বিদ্যালয় নাই। জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান-উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বেড়েছে শিক্ষার হার, কমেছে ঝড়ে পড়া।
তিনি বলেন, সরকার শিক্ষার মান-উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও এনজিও কর্তৃক পরিচালিত হওয়ায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ৫০টি বাড়ি বিলীন হলেও কর্তৃপক্ষের সাড়া নেই। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে শুধু বিদ্যালয় নয় বিনবিনা চরটিই বিলীন হয়ে যাবে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা কামনা করেন।
জাগরণীর পিও শওকত আলী স্বপন বলেন, ‘বিদ্যালয় রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোন সাড়া মেলেনি।’
ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য আমি ব্যাক্তিগতভাবে বালুর বস্তা ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছি।’ বিদ্যালয়ের সাথে চরবাসীকে ভাঙনের কবল থেকে বাঁচাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।