ঢাকাFriday , 27 July 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাকায় ওড়না বা শাড়ির আঁচল পেঁচিয়েও যাচ্ছে বহু প্রাণ

Link Copied!

নিউজ ডেস্ক : ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় প্রাণ হারিয়েছে জামালপুরের ইসলামপুরে মুনিয়ারচর গ্রামে স্থানীয় মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রোজিনা আক্তার। সে  গাড়িটিতে ছিল, সেটি দুর্ঘটনায় পড়েনি। রোজিনার মৃত্যু হয়েছে তার ওড়না অটোরিকশার চাকায় জড়িয়ে।
গত ২৪ জুলাই খালাকে সাথে নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিল রোজিনা। ইসলামপুর স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে বাড়ি যেতে অটো রিকশায় চেপেছিল মেয়েটি। কিন্তু অসাবধানতা প্রাণ কেড়ে নেয় তার।
একইভাবে মৃত্যু হয়েছে শরীয়তপুরের নওগাঁ গ্রামের নাসরিন বেগমের। একই উপজেলার সুরেশ্বর গ্রামে ননদের বাড়ি যাওয়ার সময় গলায় ফাঁস লেগে মারা যান তিনি। নাসরিনের ফাঁস লাগার কারণ তার ওড়না পেঁচিয়ে গিয়েছিল অটোরিকশার চাকায়।
গত ১৫ জানুয়ারি এই দুর্ঘটনায় শ্বাসকষ্টে অজ্ঞান হয়ে পড়েন নাসরিন। পরে আর প্রাণ আসেনি।
এমন মৃত্যুর খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে আসলেও এ নিয়ে তেমন উদ্বেগের কথা শোনা যায় না। তবে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র-সিআরপির তথ্য বলছে, ওড়না, চাদর বা শাড়ির আঁচল সামলে না রাখার কারণে নিয়মিত ঝরছে প্রাণ। পঙ্গুও হচ্ছে বহু নারী।
বাংলাদেশে মেয়েদের মধ্যে ওড়না পড়ার চল আছে ব্যাপকভাবে। সেই সঙ্গে নারীদের মধ্যে আছে চাদর ব্যবহারের প্রবণতা। কিন্তু গাড়িতে উঠে ঠিকভাবে সামলে না রাখার ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা।
প্রায় নিয়মিত এই ধরনের দুর্ঘটনায় আহত রোগী পাচ্ছে সিআরপি। তারা জানাচ্ছে, রোগীর সংখ্যাটি নেহায়েত কম না, আর মৃত্যুও হচ্ছে একটি বড় অংশের।
দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সচেতনতামূলক কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সিআরপির হিসাবে প্রতি বছরে চার শতাধিক নারী এই ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তাদের কাছে আসছেন। আর সিআরপিতে আসছে এ এমন রোগীর সংখ্যা আরও বেশি-সেটা নিশ্চিত তারা।
২০১৮ সালে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য ৪৬ জন নারী ভর্তি হয়েছেন সিআরপির কেবল সাভার শাখায়। সেখানে আহতদের মধ্যে তিন জন মারা যান। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটি কর্মকর্তা জাহিদ উদ্দিন আকন্দ।
সিআরপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মেরুদণ্ডে আঘাত, ঘাড়ের হাড় স্থানচ্যুত হওয়া, হাত-পায়ের বোধ শক্তি হ্রাস বা পক্ষাঘাত (প্যারালাইজড) হয়ে থাকে।
ওড়না ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করলে এধরনের দুর্ঘটনার পরিমান কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় জনসচেতনা সৃষ্টির কাজ করছে সিআরপি। খোলা যানবাহন যেমন মোটরসাইকেল, রিকশা, ইজিবাইকে চলাচলের সময় ওড়না পেছনে ঝুলিয়ে না রেখে তা কোলের উপর নিয়ে বসার পরামর্শ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া ইজিবাইকে চালকের পাশে বা পেছনের আসনে না বসার প্রতি জোর দেয়া হচ্ছে। শিশু ও স্কুলগামী মেয়েদের সঠিক নিয়মে ওড়না ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
সিআরপি এ নিয়ে প্রচারপত্র বিতরণের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও নানাভাবে প্রচার চালাচ্ছে।