পাবনা প্রতিনিধি : রক্ষণাবেক্ষণ আর সংস্কারের অভাবে পাবনার অধিকাংশ সড়কই এখন মরণ ফাঁদ। ভেঙেচুরে বিবর্ণ হয়ে থাকা এসব সড়ক যাত্রী আর চালকদের কাছে মুর্তিমান আতঙ্ক।
এই জেলার মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত নয়টি উপজেলার আঞ্চলিক সড়কগুলোর অবস্থা খুবই বেহাল। অসংখ্য খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে যানবাহন। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। অসুস্থ্ মানুষ হাসপাতালে যেতে আরো অসুস্থ্ হয়ে পড়ছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন পড়ে থাকা সড়কগুলোর বিবর্ণদশা ক্রমেই যেন বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে দিন দিন বাড়ছে ভাঙা সড়কের পরিমাণ।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, এলজিইডি’র আওতাভুক্ত গ্রামীণ পাকা ও আধা পাকা সড়কের অধিকাংশই রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে পাবনার চাটমোহর-ফরিদপুর, চাটমোহর-হান্ডিয়াল- মান্নাননগর, চাটমোহর-হরিপুর, চাটমোহর পৌরসভা, পাবনা-সুজানগর, পাবনা-নগরবাড়ি ও পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কেরও বেহাল দশা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সঙ্গে মহাসড়কের সংযুক্ত সব সড়কই ভেঙে গেছে। আবার ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রামীণ সড়ক ও মাটির রাস্তাগুলোরও বেহাল অবস্থা। গ্রামীণ সড়কগুলোর সবই এলজিইডির এবং উপজেলা থেকে মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত সড়কগুলো সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, জেলায় গ্রামীণ সড়ক পাকা ৭৭৪ কিলোমিটার এবং কাঁচা ৩ হাজার ৪১৫ কিলোমিটার। যার অধিকাংশই খারাপ। এসব সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কার করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের। কিন্তু তারা ফান্ডের অভাবে এগুলো মেরামত করতে পারছে না। আমরা সড়কগুলো সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলে কাজ হবে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ রায় বলেন, ‘জেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে ৫২২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কমপক্ষে ২০০ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। সড়ক বিভাগের রাস্তাগুলোর মধ্যে জাতীয় মহাসড়কসহ বেশ কিছু আঞ্চলিক সড়কও রয়েছে। এসব সড়কের ৬০ ভাগের বেশি ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক ও মহাসড়কগুলোকে চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি সড়কের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। যত দ্রুত সম্ভব শতকরা ১০০ ভাগ ওয়েল ফিনিশড করা না গেলেও জনগনের চলাচলের উপযোগী করে তোলার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সড়ক মহাসড়ক নষ্ট হওয়ার জন্য অতিবৃষ্টি, ভারী যানবাহন চলাচল বা সংস্কারের অভাবকে দায়ী করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের অভিমত, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকার কারণে সড়ক-মহাসড়কগুলোর এই বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে।’
তাদের মতে, এসব রাস্তা প্রস্তুতকালে কতিপয় ঠিকাদারদের সীমাহীন অসততার জন্যই এই দূর্ভোগ। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কঠোর মনিটরিং থাকলে যাত্রীদের আজ মহা ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।

