স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে একের অধিক শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা। এবার এই এলিট ক্লাবে প্রবেশের সুযোগ ফ্রান্সের সামনে। অন্যদিকে বিশ্বকাপ জয়ী দেশের তালিকায় নাম ওঠানোর সুবর্ণ সুযোগ ক্রোয়েশিয়ার সামনে। দুর্দান্ত খেলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে এসেছে তারা। শিরোপা জয়ী নবম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নাম লেখানোর সুযোগ ক্রোয়াটদের সামনে।
ফাইনালে আগে পরিসংখ্যানের আলোকে চলুন দেখে দেওয়া যাক কোন দলের সম্ভাবনা কেমন।
মুখোমুখি লড়াই :
** এই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার আগে পাঁচবার দেখা হয়েছিল ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার। আগের পাঁচবারের মুখোমুখিতে ফ্রান্স অবশ্য অজেয় রয়েছে। তারা জিতেছে তিনটিতে। দুটিতে ড্র হয়েছে। এর আগে দুইবার তারা বড় টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হয়েছে।
** ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দেখা হয়েছিল দল দুটির। সেবার প্রথমে পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল ফ্রান্স। ফ্রান্সের হয়ে ১৪১ ম্যাচ খেলে কোনো গোল করতে না পারা লিলিয়ান থুরাম সেদিন তার ক্যারিয়ারের ১৪২তম ম্যাচে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে ফাইনালে তুলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল ফরাসিরা।
** ২০০৪ ইউরোতে দেখা হয়েছিল ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়ার। সেবার অবশ্য কেউ জেতেনি। ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল গ্রুপপর্বের ম্যাচটি।
** সবশেষ ২০১১ সালে তারা একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। সেবার গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।
পরিসংখ্যানে ফ্রান্স :
** বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্স ষষ্ঠ দেশ হিসেবে তিন কিংবা তার বেশিবার ফাইনালে উঠেছে। জার্মানি ৮ বার, ব্রাজিল ও ইতালি ৬ বার, আর্জেন্টিনা ৫ বার ও নেদারল্যান্ডস ৩ বার করে ফাইনালে উঠেছে।
** ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে এটা হতে যাচ্ছে ফ্রান্সের ষষ্ঠ ফাইনাল। আগের পাঁচ ফাইনালে তারা তিনবার জিতেছে।
** বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের করা চারটি গোলের তিনটিই এসেছে সেট পিচ থেকে। দুটি কর্নার থেকে, একটি পেনাল্টি থেকে।
** এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের যে পাঁচজন খেলোয়াড় গোল করেছেন তাদের তিনজনই রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ( বেঞ্জামিন পাভার্ড, রাফায়েল ভারানে ও স্যামুয়েল উমতিতি)। এর আগে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের তিনজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় গোল করেছিল। সেবার শিরোপাও জিতেছিল তারা।
** ফ্রান্স নকআউট পর্বে তাদের সবশেষ ১৪ ম্যাচের মাত্র একটিতে হেরেছে। ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে তারা ১-০ গোলে হেরেছিল।
** দিদিয়ের দেশমের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি হিসেবে খেলেয়াড় ও কোচ হিসেবে শিরোপা জয়ের সুযোগ রয়েছে তার সামনে। তার আগে ব্রাজিলের মারিও জাগালো ও জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে শিরোপা জিতেছেন। দেশম বিশ্বকাপে তার তত্ত্বাবধানে খেলা ১১ ম্যাচের ৮টিতেই জয় তুলে নিয়েছেন।
** এবারের বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে ফ্রান্স কেবল ১১ মিনিট ১২ সেকেন্ড পিছিয়ে ছিল। বাকিগুলোতে তারা লিড নিয়ে জিতেছে। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া নকআউট পর্বের তিন ম্যাচের তিনটিতেই পিছিয়ে পড়ে জিতেছে।
** পেলের রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ রয়েছে ফ্রান্সের তরুণ তুর্কি কালিয়ান এমবাপের সামনে। পেলের পর দ্বিতীয় কোনো কিশোর ফুটবলার হিসেবে তার সামনে ফাইনালে গোল করার সুযোগ রয়েছে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলে ফাইনালে করা গোলসহ মোট ৬ গোল করেছিলেন। এমবাপের বর্তমান গোল তিনটি।
** অ্যান্তোনিও গ্রিজমান বিশ্বকাপ ও ইউরোর নকআউট পর্বের ম্যাচে ১১টি গোলের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন (গোল করা ও সহায়তা করা)। যা ফ্রান্সের সবশেষ ৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তার আগে জিনেদিন জিদান আটটি ও মিশেল প্লাতিনি ছয়টি গোলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ক্রোয়েশিয়ার পরিসংখ্যান :
** ক্রোয়েশিয়া ১৩তম ভিন্ন দেশ হিসেবে ফাইনালে উঠেছে। এর আগে ফ্রান্স ১৯৯৮ সালে ও স্পেন ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছিল। প্রথমবার ফাইনালে উঠেই শিরোপা জিতেছিল তারা। এবার ক্রোয়েশিয়ার সামনে রয়েছে সেই সুযোগ।
** বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্রোয়েশিয়া একমাত্র দল যারা নকআউট পর্বের তিন ম্যাচেই পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিয়েছে এবং ফাইনালে উঠেছে।
** আগের তিন ম্যাচের তিনটিতেই অতিরিক্ত সময়ে খেলেছে ক্রোয়েশিয়া। ফাইনাল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম কোনো দল হিসেবে টানা চার ম্যাচে অতিরিক্ত সময় খেলার রেকর্ড গড়বে তারা।
** এবারের আসরে ক্রোয়েশিয়ার ভিন্ন আটজন খেলোয়াড় ১২টি গোল করেছেন। তাদের চেয়ে বেশি গোল করেছে বেলজিয়াম, ১৪টি। ৯ জন ভিন্ন খেলোয়াড় বেলজিয়ামের হয়ে ১৪টি গোল করেছেন।
** ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপের সবশেষ ১০ ম্যাচেই গোল করেছে। ২০০৬ বিশ্বকাপে জাপানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর থেকে প্রত্যেক ম্যাচেই গোল পেয়েছে তারা।
** ক্রোয়েশিয়া এবারের বিশ্বকাপে পাঁচটি গোল হজম করেছে। তার চারটিই হয়েছে সেট পিচ থেকে। পেনাল্টি, থ্রো-ইন, ইনডিরেক্ট ফ্রি কিক ও ডিরেক্ট ফ্রি কিক থেকে গোল হজম করেছে তারা।
** এবারের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া সবচেয়ে বেশি ফাউল করেছে (৯৯টি) এবং সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ডও তারা দেখেছে (১৪টি)।
** লুকা মদ্রিচ এবারের বিশ্বকাপে ১৬টি সুযোগ তৈরি করেছেন। যা তার যেকোনো সতীর্থের চেয়ে দ্বিগুণ।
** ইভান পেরিসিচ মেজর টুর্নামেন্টে ক্রোয়েশিয়ার দশ গোলের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। নিজে করেছেন ৬ গোল, আর অ্যাসিস্ট করেছেন আরো ৪টি গোলে।

