স্পোর্টস ডেস্ক : ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী দলে ছিলেন থিয়েরি অঁরি। বিশ্বকাপে দুটি গোলও করেছিলেন ২০ বছর বয়সি অঁরি। ২০ বছর পর আবার একই মঞ্চে ভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে অঁরি। সেবার ফ্রান্সকে শিরোপা জেতাতে সাধ্যের সবকুটু উজাড় করে দিয়েছিলেন। এবার ফ্রান্সকে হারাতে লড়তে হচ্ছে ৪০ বছর বয়সি অঁরিকে!
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আগামী ১১ জুলাই মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম। বেলজিয়ামের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফ্রান্সের হয়ে ১২৩ ম্যাচ খেলা অঁরি। ফাইনালের টিকিট পেতে নিজ দেশ ফ্রান্সকে হারাতে ছক কষতে হচ্ছে তাকে। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশ্যম বিষয়টিকে ‘উদ্ভট পরিস্থিতি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
‘উদ্ভট পরিস্থিতি’ ব্যাখ্যা না করে উপায়ও নেই তার। সেবার দিদিয়ের দেশ্যমের হাত ধরেই বিশ্বকাপের শিরোপা প্রথমবারের মতো পেয়েছিল ফ্রান্স। বিশ্বকাপের ইতিহাসের ষষ্ঠ দল হিসেবে ঘরের মাঠে শিরোপা পায় ফ্রান্স। তাদের আগে উরুগুয়ে, ইতালি, ইংল্যান্ড, পশ্চিম জার্মানি ও আর্জেন্টিনা জেতে বিশ্বকাপ।
নিজের দেশ, প্রাক্তন সতীর্থর বিরুদ্ধে লড়াই অঁরির! ফ্রান্সের এক স্পোর্টস শোতে দিদিয়ের দেশ্যম বলেছেন,‘এটা ‘‘উদ্ভট পরিস্থিতি।’’ ও একজন ফরাসি। আর ওকে লড়তে হচ্ছে ফরাসিদের বিরুদ্ধে! তবে ও এমন একজন যার জন্য আমি খুশি। ও যা করছে সেটাকে আমি সমর্থন করি।’
১২৩ ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে ৫১ গোল করেছেন অঁরি। ফ্রান্সের হয়ে চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। ১৯৯৮ সালের পর ২০০২, ২০০৬ এবং ২০১০ সালে বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের জার্সিতে মাঠেন তিনি। ২০০৬ সালে তাদের দলটি রানার্স আপ হয়েছিল।
শেষ দুই বছর বেলজিয়াম দলের সঙ্গে কাজ করছেন অঁরি। রবার্তো মার্টিনেজের সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা তাকে নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। তার সান্নিধ্য পছন্দও করছেন তারা। দলের ডিফেন্ডার টবি অল্ডারউলার্ড বিশ্বকাপ শুরুর আগে বলেছিলেন,‘থিয়েরি অঁরি আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তার খেলোয়াড়ী জীবনের গল্পগুলো আমাদেরকে শোনায়, যেগুলোতে আমরা অনুপ্রাণিত হই। সে যা বলে সেটা আমাদের জন্য মূল্যবান হয়ে উঠে। তার উপস্থিতি এবং তার বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা আমাদেরকে ইতিবাচক থাকতে অনুপ্রাণিত করে।’ মিড ফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইন বলেছেন,‘সে আমাদেরকে সব সময় শীর্ষে দেখতে চান। আমাদেরকে ম্যাচ জেতাতে সব সময় উদ্ধুদ্ধ করেন।’
গত বছর মার্টিনেজ এক সাক্ষাৎকারে অঁরিকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘ইউরোপের সর্বপ্রথম দেশ হিসেবে বেলজিয়াম বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে নাম লিখাল। দলটা উন্নতি করছে। এর পিছনে থিয়েরি অঁরির বড় অবদান রয়েছে। সে আমাদের দলে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে।’
এদিকে থিয়েরি অঁরি প্রতিপক্ষ শিবিরে থাকায় চিন্তিত নয় ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লুকাস হার্নানদেজ। তার ভাষ্য,‘আমরা যদি জিতে যাই তাহলেও সে খুশি হবে। কারণ দিন শেষে সে একজন ফরাসি। ফ্রান্সের প্রত্যেকে জানে কত বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন অঁরি। সে ছিলেন আইকন ফুটবলার। আমরা প্রত্যাশা করছি সে আমাদেরকে সেমিফাইনালে হারাবে না।’
জীবনের কঠিনতম সময় পার করছেন অঁরি। ফরাসি হিসেবে তার দল বিশ্বকাপের ফাইনালে যাক এমনটাই হয়তো প্রত্যাশা করছেন! আবার নিজের পেশাদারিত্বের বড় সার্টিফিকেটও তার অপেক্ষায়। সহকারী কোচ হিসেবে একটা দলকে ফাইনালে তোলা তো কম নয়।

