স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবল খেলার জনক হচ্ছে ইংল্যান্ড। কিন্তু ফুটবল খেলার সাথে নিজেদের নামের প্রতি খুব একটা সুবিচার করতে পারেনি তারা। আর হবেই বা কিভাবে, ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ আসরে যে তাদের স্থান শিরপা জয়ীদের তলানিতে। বিশ্বকাপ ফুটবলের আগের বিশ আসরের চৌদ্দটিতে খেলেছে ইংল্যান্ড এবং এর মধ্যে সবে ধন নিলমণি বলতে ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়া আর নেই তেমন কোন উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি। কিন্তু তারপরও তাদের নিয়ে প্রতিবারই আলোচনা-সমালোচনা হয়েই থাকে।
বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আসে ইংল্যান্ড। দলের খেলোয়াড়দের প্রকৃত ফর্ম-পারফরমেন্স তুলনায় ব্রিটিশ মিডিয়ার দৌরাত্বে উঠে যায় আকাশছোঁয়া দূরত্বে। প্রায় প্রতি বারই ব্রিটিশ মিডিয়া তাদের দলকে চ্যাম্পিয়ন করে দেয় বিশ্বকাপের আগেই। কিন্তু এবারের চিত্র প্রায় ভিন্ন। এবারের ইংল্যান্ড দল কিংবা দলের বিশ্বকাপ পারফরমেন্স নিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়ায় খুব একটা শোরগোল নেই। এদিক থেকে কিছুটা হলেও মানসিকভাবে শান্তিতে আছে কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের টিম ইংল্যান্ড। এবারের ইংল্যান্ড দলে নেই মহাতারকা কিংবা তারকা খেতাব পাওয়া কোন খেলোয়াড়। কিন্তু দলে রয়েছে একঝাক তরুণ, নির্ভরশীল ও পরিশ্রমী খেলোয়াড় যারা যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে খেলার চিত্র বদলে দিতে পারে। এবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইংল্যাণ্ড গোল দিয়েছে ১৮টি এবং হজম করেছ মাত্র ৩টি। বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল, হল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি এর মত দলের সাথে মাত্র চার গোল খেয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় যে দলের আক্রমণ-রক্ষণ উভয় অংশ কতটুকু ঝাঝালো ও নির্ভরযোগ্য।
এবারের বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের লক্ষ নিয়ে ইংলিশরা যে স্বপ্ন দেখছে তার মূলে রয়েছে দলের অধিনায়ক হ্যারি কেন। তাকে দলের মূল প্রাণভোমরা বললে খুব একটা ভুল হবে না। বিশ্বকাপে একেবারে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন। আসরের সর্বোচ্চ ছয় গোল এসেছে কেনের পা থেকে। সর্বশেষ মৌসুমে ক্লাব টটেনহ্যামের হয়ে কেটেছে দূর্দান্ত। লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ গোলের সাথে ২ অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপে ইংল্যাণ্ডের মোট ৮ গোলের ৬ গোলই এসেছে তার পা থেকে। কেন তার সাথে দলে পেয়েছে ক্লাব সতীর্থ উদীয়মান তারকা ডেলে আলীকে। তার গতি স্কিল পাসিং একুরেসি খুবই প্রশংসনীয়। যা বিশ্বকাপেও মোটামুটি ধরে রেখেছে। এছাড়াও আক্রমণে রয়েছেন রাহিম স্টারলিং, জেমস ভার্ডি, মার্কাস রাশফোর্ড এর মত একঝাক তরুণ তুর্কী যারা নিজেদের দিনে যেকোনো দলের যেকোনো রক্ষণ তছনছ করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়াও মধ্যমাঠে জর্ডান হেন্ডারসন, জেস লিঙ্গারড, অ্যাশলে ইয়ং এবং ডিফেন্সে ফিল জোনস, জন স্টোনস, গ্যারি কাহিল এর মত ক্লাব ফুটবলের একগাদা পরিশ্রমী ও নির্ভরশীল খেলোয়াড়। তারা সকলে যদি নিজ নিজ ক্লাবের পারফরমেন্স ধরে রাখতে পারে তাহলে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয় কেউ থামাতে পারবে না ।
সেমিফাইনালের উঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ড আজ মুখোমুখি হবে সুইডেনের। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের দুইবারের সাক্ষাতে কেউ কাউকে হারাতে পারেনি। মোট ২৪বারের সাক্ষাতে ইংল্যান্ড জিতেছে ৮ বার এবং সুইডেন জিতেছে ৭ বার আর ড্র হয়েছে ৯ ম্যাচ। গত দুই বছরে বয়সভিত্তিক ফুটবলে অনেক সফলতা পেয়েছে ইংল্যান্ড। অনূর্ধ ১৭ বিশ্বকাপ, অনূর্ধ ১৯ ইউরো এবং অনূর্ধ ২০ বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ইংল্যান্ড। তাই বয়সে তরুণ দল হলেও এইবার ইংল্যান্ড দলের উপর ভরসা রাখাই যায়। দেখা যাক ১৫ জুলাই শেষ হাসি কার মুখে থাকে। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র সপ্তাহখানেক।

