ঢাকাTuesday , 3 July 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রত্যাবাসনে জটিলতা দেখছে রোহিঙ্গারা

Link Copied!

নিউজ ডেস্ক : মিয়ানমারের সাথে স্বাক্ষরিত ইউএনএইচসিআর এবং ইউএনডিপির সমঝোতা স্মারককে প্রত্যাবাসনে বড় ধরনের জটিলতা হিসেবে দেখছে রোহিঙ্গারা।সমঝোতা স্মারকে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ উল্লেখসহ পূর্ণাঙ্গ নাগরিক মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি রাখাইনে সার্বক্ষণিক জাতিসংঘের নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে রোহিঙ্গারা। তবে এই চুক্তিকে অনেকটা মন্দের ভালো হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ।
অমানুষিক নির্যাতনের মুখে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নিতে একের পর এক টালবাহানা করে যাচ্ছে মিয়ানমার সরকার। তার সবশেষ সংযোজন ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপির সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক। রোহিঙ্গারা নিজেদের মর্যাদা এবং নাগরিকত্বের দাবি জানিয়ে আসলেও চুক্তিতে তা পুরোপরি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রোহিঙ্গাদের।
উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া ছৈয়দ আলম বলেন, ‘রোহিঙ্গা হওয়ার কারণে মিয়ানমার সরকার আমাদের অনেক অত্যাচার করেছে। যার কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে হয়েছে।’ একই ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া আরেক রোহিঙ্গা মৌলভী আনাছ বলেন, ‘ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপির সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে আমাদের অধিকারের কথা লেখা নেই, তাই আমরা এই চুক্তি সমর্থন করি না।’
এখন শুধু নাগরিক অধিকার নয়, তার সাথে নতুন আরো পাঁচটি দাবি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে তুলে ধরেছে রোহিঙ্গারা। বিশেষ করে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়া হলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েনের দাবি তাদের। কুতুপালং ডি-৫ ব্লকের রোহিঙ্গা আয়াছ উল্লাহ বলেন, ‘রোহিঙ্গা নাম করে আমাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়, এজন্য দেশে ফিরতে চাই না। যদি আমাদের স্বীকৃতি দেয় এবং নাগরিকত্ব দেয়, তাহলে এ সমস্যা থাকবে না। তাহলেই দেশে ফিরতে রাজি আছি।’
আরেক রোহিঙ্গা কেরামত মিয়া বলেন, ‘যদি জাতিসংঘ কিংবা অন্য কোনো দেশ আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে আমরা দেশে ফিরে যেতে রাজি আছি।’
এ অবস্থায় সোমবার উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনে গিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস রোহিঙ্গাদের এসব দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেন। এ সময় জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, ‘সারা বিশ্ব চায় মিয়ানমারকে চাপের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে। আমরাও এ বিষয়ে সর্বাত্মক সাহায্য করব।’
এদিকে মিয়ানমারের এই চুক্তিতে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মন্দের ভালো হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম।
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার শুরু থেকেই খুব অমনোযোগী ছিল। কোনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাখতে চায়নি। তারপরও চাপের মুখে হলেও অন্তত এবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাথে রাখতে রাজি হয়েছে।’ বর্তমানে কক্সবাজারের টেকনাফ এবং উখিয়ায় নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে।