আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এক সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে টুইটে হামলা থামায়নি বিজেপি সমর্থকরা। আর নিজের লড়াই এখনও নিজেই লড়ে যাচ্ছেন সুষমা। পাশে শুধু তার স্বামী স্বরাজ কৌশল। সুষমার পাশাপাশি তার স্বামীকেও কদর্য ভাষায় টুইট করা হয় রবিবার।
মুকেশ গুপ্ত নামে এক ব্যক্তি স্বরাজ কৌশলকে টুইটে লেখেন, ‘আজ রাতে আপনার স্ত্রী (সুষমা স্বরাজ) বাড়িতে এলে কেন তাকে পিটিয়ে শিক্ষা দিচ্ছেন না মুসলিম তোষণ না-করতে? তাকে বলুন, বিজেপি কখনও মুসলিম ভোট পাবে না!’
স্বরাজ কৌশল আজ তার জবাব দিয়ে বলেন, ‘আপনার কথায় আমরা অসহ্য যন্ত্রণা পেয়েছি। আমার মা ১৯৯৩ সালে ক্যানসারে মারা যান। সাংসদ ও মন্ত্রী সুষমা এক বছর হাসপাতালে থেকে মায়ের সেবা করেছেন। আমার বাবার ইচ্ছায় তার চিতায় আগুনও দিয়েছেন। দয়া করে তার সম্পর্কে এমন শব্দ প্রয়োগ করবেন না। তার জীবনের থেকে বড় কিছু নেই। আপনার স্ত্রীর প্রতি আমার শ্রদ্ধা রইল।’
কাশ্মিরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি টুইট করে বলেছেন, ‘দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যদি এ রকম আক্রমণের মুখে পড়েন, তা হলে অন্য নারীরা কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন।’
ট্যুইট করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবার ট্রোল-কাণ্ডে সুষমা স্বরাজের পাশে দাঁড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ট্যুইটে গোটা ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন তিনি।
দলের শীর্ষ নেত্রীর অপমান নিয়ে এখনও নীরব প্রধানমন্ত্রী মোদিসহ বিজেপির প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রীরা। মমতা বন্দোপাধ্যায় টুইট করে বলেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় সুষমা স্বরাজকে যে ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে, তার কড়া নিন্দা করছি। উনি একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক। আমাদের উচিত একে অপরকে সম্মান করা এবং এই ধরনের ভাষা প্রয়োগ থেকে বিরত থাকা।’
উত্তর প্রদেশের লক্ষ্মৌ পাসপোর্ট অফিসে ধর্ম নিয়ে এক দম্পতিকে হেনস্থা করার অভিযোগ থেকে গোটা ঘটনার সূত্রপাত। এক মুসলিম দম্পতিকে দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই দম্পতিকে হেনস্থার অভিযোগে বদলি করা হয় লক্ষ্মৌ পাসপোর্ট দপ্তরের কর্মকর্তা বিকাশ মিশ্রকে। দ্রুত এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার রঙ লাগে। আক্রমণের মুখে পড়েন স্বরাজ।
বিজেপি-আরএসএস’র একাংশ প্রকাশ্যেই অভিযোগ করে, মুসলিম তোষণের জন্য পাসপোর্ট কর্মকর্তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। তাদের দাবি, নিয়ম ভেঙে পাসপোর্ট দেয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে ফিরে সুষমা বলেন, তিনি কোনও নির্দেশই দেননি। বিষয়টি জানতেনও না। কিন্তু তাতেও সুষমার ওপরে হামলা থামেনি। বিজেপি-আরএসএস-এর একাংশ রুষ্ট জেনে বিজেপি নেতৃত্বও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশে এগিয়ে আসেননি।
কুরুচিকর কটাক্ষের মুখে পড়লেও পাল্টা কটাক্ষ করেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি ‘লাইক’ দিয়ে রিটুইট করেন আপত্তিকর একাধিক টুইট। তিনি লেখেন, ‘বন্ধুরা, আমি কয়েকটি টুইটে লাইক দিয়েছি। এটা গত কয়েকদিন ধরে ঘটছে। আপনারা কি এ ধরনের টুইট অনুমোদন করেন?’ এই প্রশ্ন তুলে শনিবার সবার মতামত আহ্বান করেন সুষমা। এই প্রশ্নের ওপর কার্যত শুরু হয় ভোটাভুটি।
কী ধরনের মন্তব্যের ওপর জনতার মতামত জানতে চেয়েছিলেন সুষমা? একাধিক টুইটে সুষমাকে আক্রমণ করতে গিয়ে শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়া কোন দিকে ভোট দিল? ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এ জবাব দেয়ার কথা ছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৬০ হাজারের মতো ভোট পড়ে। তাতে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, সুষমার প্রতি অবমাননাকর টুইট তারা অনুমোদন করেন না। অনেকে আক্রমণকারীদের কটাক্ষ করে পাল্টা টুইট করেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু ৪০ শতাংশ মানুষ সুষমাকে সমর্থন করেননি। শুধু টুইটার নয়, ফেসবুকেও কুরুচিকর আক্রমণ করা হয়েছে সুষমাকে। ৩০ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ব্যক্তিগত পেজে তার সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য লিখেছেন।

