ঢাকাFriday , 15 June 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দূরপাল্লার বাসে লাগামহীন ভাড়া

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরের পোশাক কারখানার শ্রমিক আলী হোসেনের বাড়ি নেত্রকোণার পূর্বধলায়। ভোরে সেহরির পরেই রওয়ানা দিয়েছেন বাড়ির পথে। কিন্তু চান্দনা চৌরাস্তায় কিন্তু এসে দেখেন বাস সংখ্যা কম। কিন্তু দাঁড়িয়ে হাজার হাজার যাত্রী।
একটি বাস আসলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। বাসে উঠতেই হিমশিক খাচ্ছেন আলী হোসেন। সব মিলিয়ে তাকে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো প্রায় ছয় ঘণ্টা।
এই বাস সংকটে পোয়াবার চালক-শ্রমিকদের। কোনো নির্ধারিত ভাড়া নেই, যার যা খুশিমতো হাঁকছেন। রিকশা ভাড়ার মতো করে আগেই যাত্রীদের জানিয়ে দিচ্ছেন, দিতে হবে কত টাকা।
যাত্রীর সংখ্যা অসংখ্য, তাই যে বাস যত চাইছে, তা মেনেই উঠতে হচ্ছে যানবাহনে।
নেত্রকোণার কলমাকান্দা থানার পোশাক কারখানার শ্রমিক দেলোয়ারা বেগম জানালেন, সবসময় মুমিনসিং (ময়মনসিংহ) পর্যন্ত একশ টেহায় (টাকায়) যাই। অহন ভাড়া চায় পাঁচ টেহা। গাড়ি নাই, কি আর করতাম। এই টেহা দেয়াই যাওয়ন লাগব।’
ঈদে যাত্রী পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিত্য বছরের চিত্র। ঈদ যাত্রা শুরুর আগে হুঁিশয়ারি দেয়া হয় বরাবর। কিন্তু এই পকেট টাকা ঠেকাতে কার্যকর কিছুই করতে পারে না প্রশাসন।
আর শেষ সময়ে চাকরিজীবী আর বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পোশাক শ্রমিকরা বাড়ি ফেরেন বলে কোপটা পড়ে তাদের ওপরই।
মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ঈদ উদযাপন হচ্ছে আজ। আর এ কারণে আগামীকাল বাংলাদেশেও ঈদ হবে ভেবে মানুষ বড় শহর বা কর্মস্থল ছেড়ে ছুটছে গ্রাম বা মফস্বলের বাড়ির পানে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় কয়েক হাজার যাত্রীকে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও গাজীপুর হতে ভালুকা পর্যন্ত প্রতিটি স্টপেজেই একই চিত্র। মাঝে মধ্যে কোনো বাস আসলে সর্বনি¤œ ভাড়া হাকা হচ্ছে পাঁচশ টাকা।
পর্যাপ্ত বাসের অভাবে ট্রাক-ছোট আকারের মালামাল পরিবহনের গাড়ি পিকআপ ভ্যানেও চাপছে যাত্রীরা। সেখানেও ভাড়ার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি রকমের আবদার মেটাতে হচ্ছে তাদেকে।
অতিরিক্ত ভাড়া কেবল এই রুটে না, গাজীপুর থেকে উত্তরবঙ্গ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের সব রুটেই দেখা গেছে। যে রুটের ভাড়া সাধারণত ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, সেই রুটেই গুণতে হচ্ছে এক হাজার থেকে ১১ টাকা। যে রুটের ভাড়া দেড়শ থেকে দুইশ টাকা, সেখানে গুণতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এমনকি রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির বাসেও চলছে এভাবে যাত্রী ঠকানো।
গাজীপুর জেলায় কয়েক হাজার শিল্প কারখানায় কর্মরত রয়েছেন কয়েক লাখ শ্রমিক যাদের সিংহ ভাগই রাজধানীর উত্তরের ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, জামালপুরের বাসিন্দা।
গত বুধবার থেকে কারখানাগুলো ছুটি হতে শুরু করে, যদিও বেশিরভাগ কারখানা ছুটি হয়েছে বৃহস্পতিবার। আর এ কারণেই একসঙ্গে বিপুল পারিমাণ যাত্রীর চাপ দেখা গেছে।
অতিরিক্ত ভাড়ার ভোগান্তি থাকলেও যানজটের যন্ত্রণায় পড়তে হচ্ছে না যাত্রীদের। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ককে চার লেন করার পর জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত চলাচল একেবারে নির্বিঘœ। টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত যান চলাচলের গতি ধীর থাকলেও এবারের চিত্র গতবারের তুলনায় ভালো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হুসেন বলেন, ‘মহাসড়কের নিরাপত্তায় সার্বক্ষনিক পুলিশ টহল দিচ্ছে, এবার কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে মহাসড়কে যানবাহন কম থাকায় এখনও বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের চাঁপ দেখা গেছে। তবে বলার মতো যানজট নেই।’