যশোর প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছা উপজেলার ঋষিপাড়ায় পশুর হাট থেকে গরু আটককে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৪৯ সি কোম্পানির চৌগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী আন্দুলিয়া বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার ফজলুল হকের নেতৃত্বে একদল বিজিবি জওয়ান উপজেলার ঋষিপাড়ায় অবস্থিত পশুর হাট থেকে ছয়টি গরু আটক করেন। আটক গরু এ সময় হাটের খাটালে বাঁধা ছিল। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। গরু নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা বিজিবি সদস্যদের ‘চোর চোর’, ‘ধর ধর’ বলে তাদের ধাওয়া করেন। এক পর্যায়ে চৌগাছা পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর সাবিনা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে উত্তেজিত লোকজন বিজিবির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। তারা ছয়টি গরুই বিজিবি সদস্যদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন। পরে কোম্পানি কমান্ডার মোবাইলফোনে কল করে মাশিলা ক্যাম্প থেকে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য এনে গরুগুলো ফের আটক করে নিয়ে যান।
হাট মালিক দেওয়ান ডবলু বলেন, ‘এই হাট থেকে সীমান্তের দূরত্ব ১২ থেকে ১৪ কিলোমিটার। গরু ব্যবসায়ীরা হাটে গরু নিয়ে আসার পর “ভারতীয় গরু” বলে রাস্তায় প্রায়ই বিজিবি সদস্যরা হেনস্থা করছেন। আজ হাটে এসেও তারা গরু আটক করে নিয়ে গেছেন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পৌর কাউন্সিলর শাহিনুর রহমান বলেন, ‘বিজিবি টহল থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভারত থেকে সীমান্ত পার হয়ে গরু আসে? প্রতি বছর ঈদের সময় বিজিবি সদস্যরা হাট থেকে গরু ধরে নিয়ে যান। এ নিয়ে প্রায়ই গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঝামেলা বাঁধে।’
তবে বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার ফজলুল হক বলছেন, ‘বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে তো আর হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে থাকে না। রাতের আঁধারে গরু আসতে পারে।’

