ঢাকাThursday , 10 May 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘বেগম’ স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে কাঁটা’র আয়োজন

Link Copied!

বিনোদন ডেস্ক : ইট-কাঠের এই নগরীতে ‘কালিসন্ধ্যা’ আর রাতের বিভেদ করা বড় কঠিন। বাহারি আলোকসজ্জা ‘কালিসন্ধ্যার’ প্রকৃত রূপ দেখতে বাধাগ্রস্ত করে। শরৎগুপ্ত রোডের ৩৮ নাম্বার বাড়ির সামনে যখন দাঁড়িয়ে তখন ‘কালিসন্ধ্যা’ নেমেছে। বাড়িটির প্রধান ফটক লোহার তৈরি। তবে তার পাশেই রয়েছে দুই পাল্লাবিশিষ্ট ছোট একটি ফটক। এ দরজার কাঠে পচন ধরেছে। ভেঙেও গেছে কোনা কোনো জায়গায়। তবে নতুন দুয়েক খণ্ড কাঠ দিয়ে তা মেরামত করা হয়েছে।
দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে যাই। ঢুকতেই ঘোরলাগা অন্ধকার চোখে নেমে আসে। খানিক বাদেই কিছুটা আধার কাটে। আবছা আলোয় দেখতে পাই পুরোনো কাঠামোর একটি দোতলা বাড়ি। বাড়িটির সামনের পতিত জমিতে বেশ আগাছা। পতিত জমির এক পাশে একটি তাবু টানানো। তাবু পেরিয়ে বাড়িটির প্রধান ফটকের দিকে এগিয়ে যাই। দুই পাল্লার কাঠের খোলা একটি জানালা ভেদ করে অল্প আলো বাইরে বেরিয়ে এসেছে। তবে বাইরে থেকে ভেতরে অবস্থান করা মানুষের উপস্থিতি বোঝা যায় না। পরিচয় দিয়ে ডাকতেই টর্চের আলো জ্বেলে বেরিয়ে আসেন এক তরুণী। নাম তার তুরা।
লোহার এ দরজায় আঁটা তালা খুলে পথ দেখিয়ে ভেতরে নিয়ে যায় মেয়েটি। বেশ বড় পরিসরের একটি ঘর। ঘরটিতে ঢুকতেই হাতের বাম পাশে দুটি টেবিল। একটি কম্পিউটার, প্রিন্টার ও আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র এলোমেলোভাবে রাখা। এছাড়া পুরো ঘরময় শুটিংয়ের নানা জিনিসপত্র। এ ঘর থেকে সোজা বের হলেই একটি বারান্দা। বারান্দায় পা দিয়েই বুঝতে পারি বাড়িটির আকৃতি ইংরেজি ‘u’ বর্ণের মতো।
হঠাৎ চোখে পড়ে বারান্দার ডান পাশে সারিবদ্ধভাবে সাজানো আছে- পুরোনো কাঁসার থালা, গেলাস, জগ, কলসি, হারিকেনসহ গার্হস্থ জীবনের বেশকিছু জিনিসপত্র। দেখেই ভেতরটা ধক করে উঠে। মনের অগোচরেই মাথায় ভাবনা চাপে, এই থালায় হয়তো কোনো নব দম্পতি খাবার খেয়েছেন। এই গেলাসে কোনো নববধূর ঠোঁটের স্পর্শ লেগে আছে। জগটির হাতলে লুকিয়ে আছে কোনো নারীর মমতা ভরা আঙুলের ছাপ। ভাবনার বেড়াজালে যখন রীতিমতো আটকে আছি ঠিক তখন আমার সতীর্থ রাহাত সাইফুলের ডাকে ঘোর কাটে। গত মঙ্গলবার এমন ঘোরলাগা সন্ধ্যায় দয়াগঞ্জে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন স্মৃতি ভবনে হাজির হয়েছিলাম। এ বাড়িতে ‘কাঁটা দ্য ফিল্ম’ সিনেমার সেট ফেলেছেন কবি ও পরিচালক টোকন ঠাকুর। শহিদুল জহিরের ছোটগল্প ‘কাঁটা’ অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি।
বারান্দা থেকে দুই সিঁড়ি নামলেই উঠোন। এখানে অস্থায়ীভাবে সামিয়ানা টানানো হয়েছে। তার নিচেই চেয়ার-টেবিল পাতা। সেখানেই বসে কথা বলছেন পরিচালক টোকন ঠাকুর, প্রধান সহকারী পরিচালক টুটুল, ফটোগ্রাফার হোসেইন আতাহার সূরয্যে, সহকারী পরিচালক তাহুয়া লাভিব তুরা ও সিনেমাটির একজন নারী অভিনেত্রী। শুটিংয়ের নানা বিষয় নিয়ে তখনো কথা বলছিলেন পরিচালক। কুশল বিনিময় শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো ক্যামেরা ওপেন করতে পারিনি। বৃষ্টির দৌরাত্ম্য না থাকলে হয়তো শুটিং আজই শুরু করতে পারতাম। এখন সেট নির্মাণের কিছু কাজও চলছে। শুধু এ বাড়িতে নয় আরো চারটি বাড়িতে আমরা সেট ফেলেছি। সেখানেও কাজ চলছে। আগামী চারদিনের মধ্যে শুটিং শুরু করতে পারব বলে আশা করছি।’
২৫০জন অভিনেতা-অভিনেত্রী সিনেমাটিতে অভিনয় করবেন। অডিশনের মাধ্যমে এসব পাত্রপাত্রী নির্বাচন করা হয়েছে। এদের মধ্যে কোনো তারকা অভিনয়শিল্পী নেই। পরিচালক অনিমেষ আইচ একটি চরিত্র রূপায়ণ করবেন। তা ছাড়া আনোয়ারা সৈয়দ হক, অনুপম হায়াৎ-এর মতো ব্যক্তি যারা কখনো সিনেমার পর্দায় হাজির হননি এদের মতো বিশজন ব্যক্তি এই ‘কাঁটা’ সিনেমায় অভিনয় করবেন। এ ছাড়া্র গুণী অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর সিনেমাটিতে কাজ করতে পারেন। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত নয় বলেও জানান এই নির্মাতা।
অস্থায়ী সামিয়ানার নিচে বসে আমাদের আলাপচারিতা চলছে। তবে কারো মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। কারণ বাইরে তখনো আলো জ্বালানো হয়নি। বাড়িটি ঘুরে দেখতে চাইলে নির্মাতা প্রধান সহকারী পরিচালক টুটুলকে আমাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দেন। অ্যানালগ ফোনের টর্চ জ্বেলে উঠোন দিয়ে বাড়িটির পূর্ব দিকে নিয়ে যান। সেখানে বাড়ির একটি গেট নির্মিত হচ্ছে। এই নির্মিতব্য গেটের বেশ আগে ইট দিয়ে কূপের মতো তৈরি করা হয়েছে। তবে এই জায়গাতে ১৪ ফুট গভীর একটি কূপ খনন করা হবে। আপাতত মহড়ার জন্য এভাবে এটি তৈরি করা হয়েছে। এই কূপের সঙ্গে সিনেমাটির গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য জড়িত বলে জানান টুটুল।
ছাদে যেতে চাইলে টুটুল বাড়িটির মূল ভবনের নিচে নিয়ে আসে। আসার পথেই দেখতে পাই দুটি ডাকবাক্স দাঁড় করানো। আধুনিক যুগে চিঠির ব্যবহার ক্ষীণ হয়ে গেলেও সিনেমাটির গল্পের প্রয়োজনে চিঠির ব্যবহার দেখা যাবে। বাড়িটির উপরে ওঠার সিঁড়ি খুবই সরু। দুজন মানুষ পাশাপাশি হাঁটার উপায় নেই। দ্বিতীয় তলায় একটি ঘর খোলা। তাতে একজন মানুষ বসবাসের খুব প্রয়োজনীয় আসবাব ছাড়া আর বিশেষ কিছু নেই। বাকি ঘরগুলো তালাবদ্ধ। দ্বিতীয় তলার বারান্দা দিয়ে বাড়িটির উত্তর দিকে চলে যাই। সেখানে আরেকটি সরু আকৃতির সিঁড়ি। এটি দিয়ে ছাদে নিয়ে যান টুটুল। ছাদেও একটি তাবু টাঙানো হয়েছে। এই ডেরাতেই আপাতত টুটুল থাকেন বলেও জানান।
ছাদের দক্ষিণ পাশে কয়েকটি কবুতরের ঘর। এতে ষাট জোড়া কবুতর রয়েছে। তবে সন্ধ্যা পেরিয়ে যাওয়ায় কবুতরের দেখা মেলেনি। সবগুলো কবুতর সিনেমার জন্যই কেনা হয়েছে। দিনের বেলায় কবুতরগুলোকে এক প্রকার প্রশিক্ষণের(অভ্যস্ততা) মধ্যে রাখা হয়। স্থানীয় কবুতরগুলোর সঙ্গে মিশে যাওয়ার নানা প্রক্রিয়া ও ছাদে কবুতর নেমে আসলে তাদের মধ্যে শুটিংয়ের মহড়া করছেন বলেও জানান টুটুল।
কবুতরের ঘরের পাশে এসে টুটুল বলেন, ‘‘ওই যে একতলা টিনসেট বিল্ডিংয়ের ঘর দেখছেন। এগুলো ‘বেগম’ পত্রিকার অফিস ছিল। আমরা যে বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে আছি এটি নূরজাহান বেগমের বাড়ি। আর ওই অফিস ঘরের যে এরিয়াটুকু দেখছেন এটা নূরজাহান বেগমের বোনের জমি। অর্থাৎ বিশিষ্ট সাংবাদিক নাসিরউদ্দিনের মেয়ে ছিলেন তারা।’’
কথায় কথায় সময় অনেক পেরিয়ে গেছে। তাই তাড়া দিয়ে নিচে নেমে এলাম। নিচে নামতেই টোকন ঠাকুর বললেন, ‘পাশের রুমে ইনকিলাব পত্রিকা প্রিন্টের আয়োজন চলছে দেখে আসতে পারেন।’ শুনেই ঢুঁ মারি পাশের রুমে। সেখানে বেশ আয়োজনে নব্বই দশকের কিছু খবর ছাপানোর ব্যবস্থ করা হয়েছে। কিছু ডামিও দেখালেন তারা।
কথিত এ পত্রিকা অফিস থেকে বের হতেই টোকন ঠাকুর বললেন, ‘হোসেইন আতাহার ভাই একসঙ্গে আমাদের ছবি তুলে দেন।’ আমরাও পরিচালকসহ শুটিং ইউনিটের অন্যান্যদের সঙ্গে ফটোশুটে অংশ নিই। ততক্ষণে ঘরির কাটা সাড়ে আটটার ঘরে। তাই আর সময় না বাড়িয়ে বিদায় নিয়ে পা বাড়াই সদর দরজার দিকে..।