আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘মরিতে চাহি না আমি এই সুন্দর ভুবনে/ মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর এই পঙক্তিখানার মতোই অমর হতে চান অনেকেই।
যদি ক্ষণজন্মা রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ভাষায় বলি, বলতে হয়- ‘জীবন সুন্দর/ আকাশ-বাতাস পাহাড়-সমুদ্র/ সবুজ বনানী ঘেরা প্রকৃতি সুন্দর/ আর সবচেয়ে সুন্দর এই বেঁচে থাকা/ তবুও কি আজীবন বেঁচে থাকা যায়!/ বিদায়ের সেহনাই বাজে/ নিয়ে যাবার পালকি এসে দাঁড়ায় দুয়ারে/ সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে/ এই যে বেঁচে ছিলাম/ দীর্ঘশ্বাস নিয়ে যেতে হয় সবাইকে,/ অজানা গন্তব্যে,/ হঠাৎ ডেকে ওঠে নাম না জানা পাখি,/ অজান্তেই চমকে ওঠি,/ জীবন, ফুরালো নাকি!/ এমনি করে সবাই যাবে, যেতে হবে…’।
হ্যাঁ, মৃত্যু অমোঘ সত্য। চাই বা না চাই, প্রতিটি জীবকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। যদি না তিনি গ্রিক পুরাণের প্রভাতের দেবী আরোরার পতি টিথোনাস হন, যিনি মৃত্যু যেচে বলেছিলেন- ‘বনেরা ক্ষয়ে যায়, বনেরা ক্ষয়ে যায় ও ধসে পড়ে/ বাষ্পেরা ভূমিতে ছেড়ে দেয় বোঝা অশ্রুজল/… অনেক গ্রীষ্মের পর মরে যায় রাজহাঁস/ কেবল আমারই নিষ্ঠুর অমরতা’।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় এক বিজ্ঞানীর সন্ধান পাওয়া গেছে যিনি বেঁচে থাকা নিয়ে টিথোনাসের মতোই বিরক্ত ও দুঃখিত। তিনি আর বাঁচতে চান না। বরং স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বরণ করতে চান। এ উদ্দেশে গত বুধবার অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন সুইজারল্যান্ড।
ডেভিড গুডল নামের ওই বিজ্ঞানীর জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণার কারণ গ্রিক পুরাণের টিথোনাসের মতো। বার্ধক্য। ১০৪ বছর বয়সি এ বিজ্ঞানী বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে জীবনের প্রতি বিরক্ত। অনেক দিন ধরেই মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। তবে দেখা না পেয়ে হতাশ।
বিজ্ঞানীরা সাধারণত বিশ্বের জ্ঞানী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। তাদের এমন মৃত্যু প্রত্যাশা করাটা উদ্ভটই বটে। আর ডেভিড গুডল তো প্রখ্যাত বাস্তুবিদ ও উদ্ভিদবিদ। তার কেন এমন চাওয়া?
না, কোনো জটিল শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন না গুডল। তারপরও তিনি মৃত্যু চান। গত মাসে নিজের জন্মদিন পালনকালে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে তিনি বলেন, ‘এ বয়সে পৌঁছানোটা আমার কাছে বিরাট অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
গুডল বলেন, ‘আমি সুখী না। আমি মরতে চাই। আমার জন্য মৃত্যু কোনো দুঃখের বিষয় নয়। বরং যেটা দুঃখের সেটা হলো কেউ যদি মৃত্যু চেয়ে না পায়।’
তবে ডেভিড গুডল আত্মহত্যা করতে চান না। তিনি চান ‘অ্যাসিস্টেড ডেথ’ বা ‘কারো সহায়তায় মৃত্যু’। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার একটি রাজ্যে অ্যাসিস্টেড ডেথকে বহু বিতর্কের পর অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সেটি তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন কেউ এমন অসুস্থ হবেন যে, তিনি হয়ত কিছু দিন পর মারা যাবেন এবং অসুস্থতার যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছেন না। তবে এটি দেশটির অন্যান্য রাজ্যে অবৈধ।
দেশ ছাড়ার আগে ডেভিড গুডল জানান, অস্ট্রেলিয়ায় না পেরে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের জন্য তিনি সুইজারল্যান্ডের একটি ক্লিনিকে যাচ্ছেন। তবে এটি করতে তাকে অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হচ্ছে, এজন্য তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

