স্পোর্টস ডেস্ক : বায়ার্ন মিউনিখ চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে উঠবে এবং স্প্যানিশ ক্লাবের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেবে- গত কয়েক মৌসুমে এটা যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে গেছে!
শেষ চার মৌসুমেই ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনাল কিংবা সেমিফাইনাল খেলেছে বায়ার্ন। চারবারই বিদায় নিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবের বিপক্ষে হেরে। এর দুবার প্রতিপক্ষ ছিল রিয়াল মাদ্রিদ।
২০১৪ সালে সেমিফাইনালে বায়ার্ন দুই লেগ মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারে ৫-০ গোলে। পরের বছরও উঠেছিল সেমিফাইনালে। এবার আরেক স্প্যানিশ দল বার্সেলোনার বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে হারে ৫-৩ গোলে। ২০১৬ সালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সেমিফাইনালের দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর ছিল ২-২। অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে বায়ার্নকে বিদায় করে ফাইনালে ওঠে অ্যাটলেটিকো।
সর্বশেষটির স্মৃতি এখনো টাটকা। গত মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি হয়েছিল বায়ার্ন। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে বায়ার্ন হেরেছিল ২-১ গোলে। দ্বিতীয় লেগে রিয়ালের মাঠে নির্ধারিত সময়ে বায়ার্ন এগিয়ে ছিল ২-১ গোলে। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দুই গোলে বিদায় নিতে হয় বায়ার্নকে।
এই মৌসুমে সেমিফাইনালে আবারো বায়ার্নের সামনে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম লেগের স্কোরলাইন গত মৌসুমের মতোই। গত বুধবার অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন হেরেছে ২-১ গোলে। আজ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হবে ফিরতি লেগ।
স্বাভাবিকভাবেই আজকের ম্যাচের আগে বারবার ঘুরেফিরে আসছে বায়ার্নের আগের চার মৌসুমের ইতিহাস। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিতে আবারো কি স্প্যানিশ ক্লাবের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেবে বায়ার্ন?
এই রিয়ালের বিপক্ষেই তো শেষ ছয়বারের দেখায় ছয়বারই হেরেছে বায়ার্ন। সবগুলোই চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে। যেটি ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় একক কোনো দলের বিপক্ষে বায়ার্নের সবচেয়ে দীর্ঘ পরাজয়-যাত্রা। আর রিয়ালের মাঠে বায়ার্ন সবশেষ জিতেছিল সেই ২০০১ সালে, চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ১-০ গোলের সেই জয়ে একমাত্র গোলটা করেছিলেন জিওভানি এইবার।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত সাতবার ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারের পর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি কোনো দলই। বায়ার্নের প্রতিপক্ষ তাই আজ ইতিহাসও।

