বিদেশ ডেস্ক : ১৮ বছরের এক নারীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণকারীদের যৌন নিপীড়নের দায়ে পাঁচ অপরাধীকে মাত্র নয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে স্পেনে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার পাম্পলোনা শহরের বিক্ষাভে যোগ দিয়েছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। এছাড়া বিক্ষোভ হয়েছে মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও ভ্যালেন্সিয়াতেও। টুইটারে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হ্যাশট্যাগ ‘টেল ইট’। এই ট্যাগ ব্যবহার করে ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে নিজেদের নির্যাতিত হওয়ার কাহিনী তুলে ধরছেন অনেকে। বিক্ষোভকারীরা ‘ওলফ প্যাক’ নামে পরিচিতি এই মামলায় আরও কঠোর সাজার পাশাপাশি নারীদের হেয় করা পুরো আইনি ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। বিক্ষোভের মুখে যৌন অপরাধের আইন পর্যালোচনা করে দেখার কথা বলছে স্পেনের সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এসব খবর জানিয়েছে।
শনিবার স্পেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ২০১৬ সালে সালে স্পেনে বার্ষিক ষাড়ের দৌড় প্রতিযোগিতার মধ্যেই পাঁচ জনের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন তখনকার ১৮ বছরের ওই নারী। পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী পাঁচ পুরুষ তাকে নির্জন স্থানে ঘিরে ধরে ধর্ষণ করে তা ফোনে ধারণ করে রাখে। ‘ওলফ প্যাক’ নামে নিজেদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভিডিও প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ উদযাপন করে তারা। পাঁচ মাসের রুদ্ধদ্বার বিচার শেষে আদালতে যৌন নিপীড়নে দোষী প্রমাণিত হয় ওলফ প্যাক নামে পরিচিতি পাওয়া পাঁচ যুবক। প্রসিকিউটরেরা তাদের ২০ বছর করে কারাদণ্ডের আবেদন জানালেও আদালতের রায়ে প্রত্যেককে নয় বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া রায়ে ওই নারীকে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণার পর থেকেই স্পেনে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ।
স্থানীয়ভাবে স্যান ফার্মিন নামে নামের ষাড় দৌড়ের প্রতিযোগিতা যে রাস্তায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানেই শনিবার বিক্ষোভ করেছেন ৩০ হাজার বিক্ষোভকারী। এসব বিক্ষোভকারীরা নারীর জন্য অবমাননাকর পুরো আইনি ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। এক নারী বিক্ষোভকারী স্থানীয় রেডিও স্টেশন আরটিভিইকে বলেছেন, ‘বিচার এখনও পুরুষতান্ত্রিক। এটা আমাদের দোষারোপ করে আর আমরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ি।’ ‘কেউ আমাদের মতামতের বিচার করে না’ লেখা ব্যানারের সামনে জড়ো হয় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে বাস্ক এলাকার হোনদারিবিয়া সংঘের চার্চের নারীরাও। ওই সাজার বিরুদ্ধে বলছেন তারাও। তাদের এক প্রতিনিধি সিস্টার মারিলুজ বলেন, এই রায়ের সমালোচনায় চার্চের একটি কণ্ঠ হতে চাই আমরা।
স্পেনের আইন অনুযায়ী যৌন নিপীড়নের অপরাধের সাজা ধর্ষণের ঘটনার সহিংসতা অথবা হুমকির মাত্রার ওপর নির্ভর করে। বিক্ষোভের মুখে এই আইন পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে স্পেনের সরকার।

