ঢাকাSaturday , 28 April 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আন্তঃকোরীয় সম্মেলনকে টার্নিং পয়েন্ট বলল পিয়ংইয়ং

Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট : উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতাদের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্মেলনকে নতুন মাইলফলক তথা কোরীয় উপদ্বীপের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার সরকারি গণমাধ্যম কেসিএনএ শনিবার দুই নেতার যৌথ ঘোষণাকে আলাদাভাবে প্রকাশ করে এমন মন্তব্য করেছে।
এর আগে শনিবার প্রায় এক দশক পর বৈঠকে মিলিত হন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে উন। দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী বেসামরিক এলাকা ঐতিহাসিক পানমুনজামের পিস হাউজে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এদিন দুই কোরিয়া ভাগ হওয়ার পর প্রথম কোনো উত্তর কোরীয় নেতা হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় পা রেখে ইতিহাস রচনা করেন কিম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, যৌথ ঘোষণায় কিম ও মুন কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে একত্রে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
কেসিএনএ বলেছে, ‘দুই পক্ষের মধ্যে খুবই স্পষ্ট ও খোলাখুলি কথাবার্তা হয়েছে। আলোচনার মধ্যে ছিল দুই কোরিয়ার সম্পর্কোন্নয়ন, কোরীয় দ্বীপে শান্তি নিশ্চিত এবং সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ।’
‘রাতের খাবারের সময় এমন একটা পরিবেশ ছিল, যা রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজনদের বেলায় ঘটে,’ উল্লেখ করেছে সংবাদ মাধ্যমটি।
দুই নেতার বৈঠকের খবর এবং ছবি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম ব্যাপক উৎসবমুখরভাবে প্রকাশ করেছে বলেও জানিয়েছে রয়টার্স ও গার্ডিয়ান।
তবে প্রতিবেদনগুলোতে দুই কোরিয়ার সম্পর্কোন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হলেও উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক ও মিসাইল কর্মসূচি পরিত্যাগ করছে এমন কোনো উল্লেখ নেই। যদিও আগেই উত্তর কোরিয়া এ রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যমে পরমাণু অস্ত্র মুক্তকরণের আলোচনার কথা বলা হলেও এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। বরং এর পরিবর্তে দুই কোরিয়ার শান্তি, প্রগতি ও ঐক্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০০ ও ২০০৭ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে এই যৌথ ঘোষণাকে অনেকটা ‘সতর্কতামূলক’ বলার পাশাপাশি আশাবাদও প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতারা। যেমন- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সময়ই বলে দেবে। তবে তিনি মনে করেন না যে, এর মাধ্যমে কিম ‘খেলছেন’।
পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে চান, অন্যান্য মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মতো ভুল করতে চাই না।
শনিবার সিডনিতে এক টেলিভিশন ভাষণে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, ট্রাম্পের শক্ত অবস্থানের কারণেই দুই কোরিয়ার মধ্যে আলোচনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থানের কারণেই বিশ্ব সম্প্রদায়, বিশেষ করে চীন উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা পিয়ংইয়ংকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে। সেইসঙ্গে উত্তর কোরিয়ার জাহাজে সন্দেহভাজন কিছু বহন করা হচ্ছে কি না পর্যবেক্ষণ করতে অস্ট্রেলিয়া সামরিক বিমান পাঠাবে বলেও জানান অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, চীনা গণমাধ্যম চায়না ডেইলি শনিবার এক সম্পাদকীয়তে বলেছে, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ দুই কোরিয়ার বৈরিতার অবসান ঘটাবে এবং কোরীয় উপদ্বীপে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে। তবে শুক্রবারের যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়নে পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলেও ওই সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করা হয়েছে।