নিজস্ব প্রতিবেদক : সবার জন্য পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে খাদ্য অধিকার আইনের প্রয়োজন বলে দাবি করেছে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন।
পাশাপাশি খাদ্যের সঙ্গে পুষ্টি নিরাপত্তা, নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ১০টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খাদ্যের সঙ্গে পুষ্টির নিরাপত্তার বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। মায়ের গর্ভ থেকে শিশুর জন্ম, বেড়ে ওঠা, যৌবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য প্রাপ্তি সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খাবারের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন মানুষের জীবন ধারণের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ও উৎপাদনশীলতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখে যার কারণে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য সবার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের এখন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে গত ১০ বছরে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে সাত লাখ। গত বছর ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি ২০১৭ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জাতিসংঘের কৃষি উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ফিফা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, জাতিসংঘ শিশু সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে প্রতিবেদনটি তৈরি করে।
বিদ্যমান সামাজিক কাঠামোতে পশ্চাৎপদ চিন্তার কারণে আমাদের সমাজে দীর্ঘকাল ধরে এবং এখন পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা পরিবারে পুরুষদের এবং ছেলে শিশুদের ভালো খাবারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেন এবং কন্যাশিশুদের খাইয়ে যা অবশিষ্ট থাকে তাই খান অথবা কোনো কোনো সময় অভুক্ত থাকেন আমাদের এসব বিষয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ছেলেমেয়েদের সমান অধিকারে সমান খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে এবং দরিদ্র মানুষ যাতে পুষ্টিকর খাদ্য খেতে পারে তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। পুষ্টিকর খাদ্যের দাম নির্ধারণ করে দিতে হবে যাতে দরিদ্র মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে। তাহলে প্রত্যেক মানুষ পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তা পাবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী, শাহিনা আক্তার ডলি, তরিকুল ইসলাম, মীর নেওয়াজসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

