
নিউজ ডেস্ক : বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজাকার’ বলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
আদালত বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ করে অপেক্ষমান রেখে ২টার পর আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।
বাদীর পক্ষে মামলাটি আদালতে দাখিল করেন অ্যাডভোকেট রনি কুমার দে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নুরুল আজিম রনি বলেন, ‘তারেক রহমান লন্ডনে বসে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানা কটূক্তি করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়ডন্ত্র করছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় বাদী নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমুসহ চারজনকে সাক্ষী উল্লেখ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত লন্ডনে তারেক রহমানের দেয়া বক্তব্য এজাহারের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন। আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২৩ এর ক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, লন্ডনে বসে মানহানিকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে একটি মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউনুস খানের আদালতে অ্যাডভোকেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল তারেক রহমানকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, গত ১৫ ডিসেম্বর রাতে ইস্ট লন্ডনের দ্যা অস্ট্রিয়াম অডিটরিয়ামে বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় তারেক রহমান শেখ মুজিবুর রহমানকে মামলার আসামি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে রাজাকার এবং শখের বন্দি বলে আখ্যায়িত করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিব ও তার পরিবারের ভূমিকা নেই বলে বক্তব্য দিয়েছেন।
গত ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় বাদী তার চেম্বারে এসে পত্রপত্রিকা দেখে এ বিষয়ে অবগত হন। আসামির এ ধরনের রক্তব্যকে বাদী রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানিকর এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত করার অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করে এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় বাদী আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আবেদন জানান। মামলায় বাদী নিজে ছাড়াও আরো ছয়টি পত্রপত্রিকা ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও এর প্রতিনিধিদের সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বাদীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মাজেদা আক্তার সুহি ও অ্যাডভোকেট শাহজাহান রুহুল মামলটি দায়ের করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মামলাটি আদালতে শুনানির অপেক্ষায় ছিল।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ইস্ট লন্ডনের দ্যা অট্রিয়াম অডিটরিয়ামে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ মুজিব এখন আওয়ামী লীগের লালসালু। এই লালসালুকে ঘিরে থাকা ভণ্ডরাই নিজেদের স্বার্থে যাকে-তাকে রাজাকার আখ্যা দেয়। আওয়ামী লীগ দাবি করে তাদের দল নাকি মুক্তিযুদ্ধের দল অথচ চোরের দল, চাটার দল আখ্যা দিয়ে শেখ মুজিব নিজেই আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এমন একটি কাজ করার জন্য তাহলে তো শেখ মুজিবই বড় রাজাকার।
তারেক রহমান বলেন, বাস্তবতা হলো, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকালীন দল বটে, তবে মুক্তিযুদ্ধের দল নয়। এ দলের অধিকাংশ নেতাই মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশ নেননি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদারদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের উপঅধিনায়ক সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান একে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘শেখ মুজিব ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতাকামী জনগণের উপর হামলার আগ পর্যন্ত ইয়াহইয়া খানের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতাকামী জনগণ তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার খায়েশ নস্যাৎ করে দিয়েছিল।’
তারেক বলেন, ‘শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হলেও যথাসময়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে জিয়াউর রহমানের কোনো সমস্যা হয়নি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘একটার পর একটা অপকর্ম করে রংহেডেড শেখ হাসিনা বিপদে পড়লেই জনগণকে ধোকা দিতে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করেন।’
তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিব কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে নয়, আন্দোলন করেছিলেন পূর্বপাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের জন্য। শেখ মুজিব স্বাধীনতা চাননি বলেই সুযোগ পেয়েও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি।
তারেক অভিযোগ করে বলেন, ‘পাকিস্তান আমলের পুরো সময়টাতে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবনে কোথাও কোনো সমাবেশে প্রকাশ্যে কখনোই তার মুখ থেকে কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা উচ্চারিত হতেও শোনেনি। শেখ মুজিব চেয়েছিলেন ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।’

