বিনোদন ডেস্ক : জনপ্রিয় গীতিকার, সংগীতশিল্পী, অভিনেতা ও নির্মাতা অঞ্জন দত্ত। প্রথিতযশা এই শিল্পীকে নিয়ে বই লিখেছেন বাংলাদেশি লেখক ও গীতিকার সাজ্জাদ হুসাইন। এরই মধ্যে বইটি ঘিরে ভক্তদের মনে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, অঞ্জন দত্তের ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা কথা উঠে এসেছে বইটিতে। এর মধ্যে রয়েছে-ছেলেবেলায় ইংরেজি শিক্ষিকার প্রেমে পড়া, ১৪ বছর বয়সে প্রথম চুমু, বাবা হওয়ার মুহূর্তে তার অনুভূতি ইত্যাদি।
বইটি প্রসঙ্গে সাজ্জাদ হুসাইন ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, “আমি নভেম্বরে তাকে প্রথম কল করি, সেই সময় তার প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘আমি কেন?’ আমার সবসময়ই মনে হতো তার কাজের মধ্যে কিছু একটা রয়েছে সেটা সিনেমা হোক অথবা সংগীত। তার ‘মিস্টার হল’ গানটি সংগীত শিক্ষককে নিয়ে, তিনি যার প্রেমে পড়েছিলেন। ‘বেলা বোস’ গানটিও আরেক নারীকে নিয়ে যার প্রতি তার ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল। আমি উত্তম কুমারের ‘আমার আমি’ পড়ে খুবই হতাশ হয়েছিলাম কারণ সেখানে কোনো নারী, এমনকি অ্যালকোহলের কথাও উল্লেখ ছিল না। আমার মনে হয়েছিল অঞ্জনদা সত্যি কথাটা বলবেন।”
এ প্রসঙ্গে অঞ্জন দত্ত বলেন, “আমি কখনোই ভাবিনি আমাকে নিয়ে কেউ বই লেখার আগ্রহ করবে। এটা খুবই অনাকাঙ্খিত। আমার বেড়ে ওঠা খুব বিক্ষিপ্ত। আমি থিয়েটার ভালোবাসতাম। একটা সময় আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী চন্দাকে বিয়ে করতে হয় এবং তখন আমার চাকরির দরকার ছিল। তাই আমি সাংবাদিকতা শুরু করি।
যেহেতু আমি অভিনয়শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, বিয়ের পর আমি চাকরি ছেড়ে দেই এবং থিয়েটারে মনোযোগী হই। ১৯৮০ সালে মৃণাল সেন এবং বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত আমাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাস্ট করেছিল। ১৯৮১ সালে আমি ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কারও পাই এবং নিশ্চিত ছিলাম সৌমিত্র চ্যাটার্জির পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি অভিনেতা হবো আমি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা হয়নি। আমি একটি থিয়েটার কোম্পানির হয়ে কাজ করতে বার্লিন যাই। সেই সময় আমার বয়স ছিল ৪২ বছর, ভালো চরিত্র ও পুরস্কারের অপেক্ষা করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। এবং এরই মধ্যে আমি গায়ক, গীতিকার হিসেবে পরিচিতি পেলাম। সুমনের অনুপ্রেরণায় পরিবার ও নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে আমি গাইতে শুরু করি। এরপর সিনেমার প্রতি টান থেকে পরিচালনায় এলাম।’’
দার্জিলিংয়ে অঞ্জন দত্ত ও সাজ্জাদ হুসাইনের কথোপকথন থেকে বইটি লেখা। অঞ্জন দত্ত বলেন, “আমি মানুষকে কষ্ট দিয়েছি, ভুল বুঝেছি, কিন্তু এজন্য আমি দুঃখও প্রকাশ করেছি। বইটিতে আমাকে ‘চাইল্ড-ম্যান’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। স্বামী ও বাবা হিসেবে আমি বিরক্তিকর। কিন্তু তারপরও নীল এবং চন্দা আমার পাশে থেকেছে। আমি যেমন সে হিসেবে আমাকে মেনে নেয়ায় তাদের কাছে আমি ঋণী।”

