ঢাকাThursday , 8 February 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশের শীর্ষে নাজমুল, ছয়ে রাজ্জাক

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজকীয় প্রত্যাবর্তন একেই বলে! ঢাকা টেস্টের সকালটা নিজের করে নিলেন দলে ফেরা আব্দুর রাজ্জাক।শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ টেস্ট খেলে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন ২০১৪ সালে। সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজ ফিরলেন মিরপুরে। তারও একই তারিখে! ২০০৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। সাদা পোশাকে শেষ খেলেছিলেন। এরপর কেটে যায় চার-চারটি বছর। ভাগ্য বদলায়নি তার। আজ ফের ফিরলেন সেই একই মঞ্চে, একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে।
দলে নেই সাকিব আল হাসান। চট্টগ্রাম টেস্টে রাজ্জাককে দলে নিয়ে আসা হয় হুটহাট করে। কিন্তু তাকে না খেলিয়ে বিবেচনায় আনা হয় সানজামুল ইসলামকে। নিজের অভিষেক ম্যাচে সানজামুল ছড়াতে পারেননি মুগ্ধতা। তাকে বাদ দিয়ে ঢাকা টেস্টে নিয়ে আসা হয় ৩৫ বছর বয়সি রাজ্জাককে।
চার বছর পর রাজ্জাক ফিরলেন যখন তার ক্যারিয়ারের সাফল্যের সুর্য মধ্যগগণে। কিছুদিন আগেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে নিয়েছেন পাঁচশ উইকেট। দল থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এ সময়ে নিয়েছেন সর্বোচ্চ ২৪৪ উইকেট।
বল হাতে নিয়মিত সাফল্য পাওয়ায় তার বেড়েছে আত্মবিশ্বাস। আজ সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সেশনে তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। বল করেছেন নির্দিষ্ট লাইন ও লেন্থ ধরে রেখে। তবে রানও খরচে কিপটেমি করতে পারেননি। মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগে লঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমালকে যেভাবে বোল্ড করেছেন তাতে মনে হয়েছেন দেশকে দেওয়ার অনেক কিছু এখনও বাকি রাজ্জাকের। এছাড়া তার দুই শিকার দিমুথ করুনারত্মে ও দানুশকা গুনাথিলাকা।
চার বছরে রাজ্জাক মিস করেছেন ২২ টেস্ট। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এ তালিকাটা আরও লম্বা। ম্যাচের বিবেচনায় সবার উপরে আছেন পেসার নাজমুল হোসেন। ২০০৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভারতের বিপক্ষে অভিষেকের ৭ বছর পর দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন নাজমুল হোসেন। এ সময়ে তিনি ম্যাচ মিস করেন ৩৮টি।
আরেক পেসার মোহাম্মদ শরীফও আছেন এ তালিকায়। ২০০২ সালের ১৬ জানুয়ারি চট্টগ্রামে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার পর ২০০৭ সালের ২৫ মে ভারতের বিপক্ষে সুযোগ পান শরীফ। ৩৪ ম্যাচ মিস করেন ১০ টেস্ট খেলা শরীফ।
অনেক আশা জাগিয়ে এসেছিলেন সাজেদুল ইসলাম। ২০০৮ সালে তার অভিষেক জাতীয় দলে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ জানুয়ারি নিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলার পর তৃতীয় টেস্টের জন্য অপেক্ষা করেন পাঁচ বছর। এ সময়ে বাংলাদেশ খেলেছে ২৭ টেস্ট।
২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে ব্যাটিং ওপেন করা শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের দ্বিতীয় টেস্ট খেলার জন্য অপেক্ষা করতে হয় তিন বছরেরও বেশি সময়। ২০০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি যখন দলে ফিরেন তার মাঝে বাংলাদেশ খেলে ২৫ টেস্ট।
ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন ভালো সময় কাটাচ্ছেন তুষার ইমরান। ২০০২ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ভালো করতে না পারায় জায়গা হারান দ্রুত। ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে ফিরলেও বেশিদিন খেলতে পারেননি। ২০০২ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত মোট ২৩ ম্যাচ মিস করেন তুষার।
আজ রাজ্জাক ফিরলেন ২২ ম্যাচ পর।
পেসার শফিউল ইসলামের ক্যারিয়ারে গেছে এমন সময়। ২০১০ সালে অভিষেকের পর টানা খেলেছেন এক বছর। ২০১১ সালের ৪ আগস্ট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে খেলার পর পরের টেস্ট খেলতে শফিউলকে অপেক্ষা করতে হয় তিন বছর। এ সময়ে ১৫ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ।
‘হাল কখনো ছাড়া যাবে না। ‍সুযোগ আসবে যেকোনো সময়।’-এমন বিশ্বাসে বিশ্বাসী রাজ্জাক। রাজ্জাক ফিরলেন দৃষ্টান্ত হয়ে। তিনি নিজেও স্বীকার করেন তার ফেরা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকা উচিত অন্যান্য ক্রিকেটারদের জন্য। তরুণদের জন্য আদর্শ আর বড়দের জন্য অনুপ্রেরণা।