নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি। ডিএনসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার একদিন আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে ৯ জানুয়ারি।
ডিএনসিসিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করতে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও দলের ভেতরের খবর পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রাক্তন সভাপতি আতিকুল ইসলামকে কাজ শুরু করতে বলেছেন দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে বিএনপিও একইভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি বলছে। যদিও দলের মধ্যে জোর আলোচনা রয়েছে তাবিথ আউয়ালই পেতে পারেন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা টিকিট।
এই বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ডিএনসিসিতে নির্বাচনে যে আমরা অংশগ্রহণ করবো, তা দলের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ওই নির্বাচনে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। হলে আমরা জানিয়ে দেবো।’
এর আগে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নিয়ে যৌথসভা করেন বিএনপি মহাসচিব।
আগামী নির্বাচনের পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি কী আশঙ্কা করছে বলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘কোনো আশঙ্কা তো নেই। আশঙ্কা তৈরি হবে তখন, যখন সরকার চাইবে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে। আশঙ্কা থাকবে তখন যখন সরকার জনগণকে ভোট না দেওয়ার ব্যবস্থা করবে, যখন সরকার পুরো বিষয়টিকে ঘোলাটে করে তুলবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করবে। এটাই একমাত্র পথ, এর বিকল্প নেই। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা সেই ধরনের কোনো আলামত দেখতে পাচ্ছি না।’
‘জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই মেয়াদ পূরণ করতে পেরেছি’-বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘উনি প্রধানমন্ত্রী আছেন জোর করে। দখলদারিত্ব, রাষ্ট্রের সব যন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষাকে ভেঙে দিয়ে একেবারে জবরদস্তি করে ক্ষমতায় আছেন। তার যদি এতটুকু গণতান্ত্রিক মুল্যবোধ থাকতো, তাহলে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতেন।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও বিএনপি সম্পর্কে ‘আপত্তিকর বক্তব্য’ রেখেছেন অভিযোগ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘গত দুইদিনে প্রধানমন্ত্রী আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্পর্কে এবং জিয়াউর রহমান ও বিএনপি সম্পর্কে আপত্তিকর কিছু মন্তব্য করেছেন, যেটিকে আমরা মনে করি সবচেয়ে অরাজনৈতিক এবং রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার বিবর্জিত। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার সম্পর্কে এই ভাষায় উক্তি করা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।’
‘দুর্ভাগ্যজনক একটি সরকারের প্রধানমন্ত্রী সেভাবে কথা বলেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আগামীতে এই রকমর রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য না রাখার আহ্বান জানাচ্ছি’, বলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সঠিক ভূমিকা রাখতে পারছে না দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হচ্ছে সাংবিধানিক প্রধান রাষ্ট্রের প্রধান এবং আমরা তাকে সেই ধরনের সম্মান দিয়ে এসেছি। দুর্ভাগ্য রাষ্টপতি পুরোপুরিভাবে দলীয় যে লক্ষ্য আছে অর্থাৎ আওয়ামী লীগের সেই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তিনি (রাষ্ট্রপতি) সংসদে যে বক্তব্য দেন, সেটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে তৈরি করে দেবেন এবং সেটি তিনি পাঠ করবেন। কিন্তু মিনিমাম কিছু বিষয় তো আছে। এই যে দেশে গণতন্ত্র নেই এটা তো সত্যি কথা। দেশের মানুষ যে লাঞ্চিত হচ্ছে নিপীড়িত হচ্ছে এবং মানুষের অধিকার হরণ করা হচ্ছে-এই বিষয়গুলো তার বক্তব্যে আসেনি। উন্নয়ন গণতন্ত্রকে সুসংসহত করার বিষয়গুলোতে রাষ্ট্রপতির কাজের মধ্যে প্রতিফলন দেখতে পাইনি। নাগরিক হিসেবে আমরা ব্যথিত যে, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সেই সময় সঠিক ভূমিকা রাখতে পারছেন না।’
সরকার বিএনপির সভা-সমাবেশগুলোতে বাধা দিচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার এসব করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা হেলিকপ্টারে গিয়ে ভোট চাইছেন, অথচ বিএনপিকে অনুমতি দেওয়া হয় না।’
এ সময় মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে, সম্প্রতি সময়ে বেআইনি গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে গেছে। খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা দেওয়ার দিন এটা বেশি হচ্ছে।
এ সময় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, ওলামা দলের সভাপতি আবদুল মালেক, জাসাস সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান, আবদুস সালাম আজাদ, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

