ঢাকাMonday , 18 December 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আগামী নির্বাচন বাঁচা-মরার লড়াই

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘জনগণের হারানো অধিকার’ ফিরিয়ে আনতে আগামী নির্বাচনে বিএনপির উত্তীর্ণ হওয়ার বিকল্প নেই জানিয়ে বিষয়টিকে ‘বাঁচা-মরার লড়াই’ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তাদের পাশে দাঁড়াতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বানও জানান দলটির এই নীতিনির্ধারক।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে ‘বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ’ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ‘মানবাধিকার ও আইনের শাসন’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ সিভিল রাইটস সোসাইটি’ নামের একটি সংগঠন।
আমির খসরু মাহমুদ বলেন, ‘আমাদেরকে নাগরিক হিসেবে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ আজকে এমন পর্যায়ে গেছে যে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত। আমাদের তাদের পাশে থাকতে হবে এবং আগামীতে যে নির্বাচন আসছে তা বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার সংগ্রাম।’
‘এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের সকলকে সব হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনতে সংগ্রামে উত্তীর্ণ হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই,’ বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে অভিযোগ করে এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন আমির খসরু।
‘বাংলাদেশে যে মানবাধিকার হরণ করা হচ্ছে তা স্বপ্রণোদিত, এটা নীলনকশা এবং এটার পেছনে যুক্তি কাজ করছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পেছনে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতা দখল করে বছরের পর বছর থাকার একটি উদ্দেশ্য আছে। সাধারণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে এটি তুলনা করা যাবে না।’
বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন শুরু হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সংবিধান হচ্ছে জীবন্ত দলিল। সংবিধানের কাজ হচ্ছে একটি দেশ ও জাতির সুরক্ষা করা, অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা সংবিধানকে তাদের সুবিধা মতো করে পরিবর্তন করেছে শুধু ক্ষমতায় ধরে রাখার জন্য এবং তাদের চিন্তা-চেতনাকে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য।’
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন প্রবর্তনের জন্য সংবিধান পরিবর্তন করেছে দাবি করেন বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘এটা করে সংবিধানকে ডিপ ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটাতে হাত দেওয়া যাবে না। কারণ হাত দিলে আবার সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে, মানবাধিকার-আইনের শাসন ফিরিয়ে দিতে হবে।’
আমির খসরু মাহমুদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যদি সংবিধান পরিবর্তন করে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনতো, তাহলে দেশে কি গণতন্ত্র থাকত? সংবিধানে হাত দেওয়া যাবে না, এটা মানবাধিকারের বড় লঙ্ঘন। বাংলাদেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য অধিকারের জন্য যতবার প্রয়োজন এটি পরিবর্তন করতে হবে। বিশ্বের সব সংবিধান এমনই। এটা কি বাইবেল যে পরিবর্তন করা যাবে না।’
সরকার বিচারবিভাগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আইনের শাসন ধ্বংস করেছে মন্তব্য করেন তিনি বলেন, ‘এটা নীলনকশার অংশ। আইনের শাসন বাংলাদেশে আজ অনুপস্থিত। এখন দেশে আছে শাসকের আইন। এর মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব ব্যবস্থা তারা নিশ্চিত করেছে। প্রধান বিচারপতিকে রীতিমতো পালিয়ে যেতে হয়েছে। তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।’
সংসদ কার্যক্রমের সমালোচনা করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আজকে যে সংসদের মাধ্যমে মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষা করার কথা সেখানে এসবের কিছুই হচ্ছে না। সংসদে বিরোধী দল বলতে কিছু নাই। কারা বিরোধী দল আর কারা সরকারি দল তা খুঁজে বের করা মুশকিল। পুরোপুরি দলীয়করণের মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগকে ব্যবহার করা হচ্ছে, মানুষের মানবাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য। তারা (সরকার) রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।’
বাংলাদেশে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুম হচ্ছে দাবি করেন আমির খসরু মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বে অনেক দেশে গুম হয়। তিনি মিথ্যা বলেননি। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও গুম হয়, কিন্তু এত হয় না। আর ওই গুমের সঙ্গে বাংলাদেশের গুমের পার্থক্য রয়েছে।’
‘ওখানে গুম হয় টাকা-পয়সা পণ- অপহরণের জন্য। সেগুলোর তদন্তও হয়। সেখানে সরকারকে প্রমাণ করতে হয় ওই গুমের বিচার আমরা করেছি। তা না হলে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করতে হয়। বাংলাদেশের মতো কোনো গুম যদি সভ্য দেশে হয়ে থাকে সেই সরকারকে তার পরের দিন পদত্যাগ করতে হতো,’ বলেন তিনি।
আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান সাংবাদিক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। এ ছাড়া জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সানোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।