নিজস্ব প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিষয়টিকে ‘ধোকাবাজি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি করা হয়েছে। অথচ এখন দেখতে ও শুনতে পাচ্ছি রোহিঙ্গাদেরকে নোয়াখালীর একটি জায়গা বসবাসের জন্য দেওয়া হচ্ছে। এর মানে কি?’
‘যদি রোহিঙ্গাদের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে হয় তাহলে তো বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হচ্ছে ধোকাবাজি চুক্তি। সরকার মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চুক্তির মাধ্যমে দেশের জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে’, বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
‘বাংলাদেশে মানবাধিকার’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম’ যুক্তরাজ্য শাখা।
খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ও নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা হচ্ছে অভিযোগ করে আমির খসরু বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আইনি ব্যবস্থায় ফেলে আওয়ামী সরকার ফসল ঘরে তুলতে পারবে না। বরং তারা যে পথে চলছে সেক্ষেত্রে শুধু বিদায় হবে না, উচ্চ মূল্যে বিদায় নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনসম্পৃক্ত কোনো নির্বাচনের প্রতি ক্ষমতাসীন সরকারের আস্থা নেই। তারা জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বাইরে রেখে আবারও ক্ষমতা দখল করতে চায়।’
নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আগে জনগণ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয় জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের মানুষ কি প্রস্তুত?’
‘বাংলাদেশে যখন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থায় আগামী নির্বাচনের পরিবেশ বা ক্ষেত্র তৈরি হবে, তখন দেশের মানুষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে। এর বাইরে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি কিংবা ষড়যন্ত্র হলে দায়ভার ষড়যন্ত্রকারী ও নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে’, বলেন তিনি।
ইকরামুল হক মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. শাহিদা রফিক, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন।

