ঢাকাSunday , 26 November 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গুম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রতারণা

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিভিন্ন দেশে গুমের ঘটনার উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’ বলছেন বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে দলটির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন বাংলাদেশে গুমের ঘটনা ঘটেছে। সেই সাথে তিনি গুমকে যৌক্তিক করার জন্য বিভিন্ন দেশের নাম উল্লেখ করে বলেছেন, সেখানেও গুম হয়।’
‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সেসব দেশে এত হারে গুম হয় না। আর সেখানে যদি গুম হয় তাহলে কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী বা প্রতিপক্ষ কাউকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের জন্য গুম হয়। কোনো দেশে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এভাবে গুমের নজির নেই। আমরা এই ধরনের বক্তব্যের নিন্দা জানাই।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমনত্রী তার বক্তব্যে সত্যকে গোপন করে অন্য দেশের উদাহরণ দিয়ে এদেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এটা দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অধিকার আপনার নেই।’
‘গুম-খুন-নির্যাতন বন্ধে করনীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন।
অন্য দেশের গুমের ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশের গুমের ঘটনার পার্থক্য রয়েছে দাবি করে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ঘটনার সঙ্গে সরকারের বাহিনী জড়িত। এর দায় সরকার এড়াতে পারে না।’
‘২০০৯ সাল থেকে যতগুলো গুম হয়েছে তা সরকারের নির্দেশে তার প্রশাসন তাদের যে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, তার মাধ্যমে গুম হয়েছে। আজকে সরকারের পক্ষ থেকে সাফাই গাওয়া হচ্ছে। এটা প্রমাণিত যে রাষ্ট্রযন্ত্রের সরাসরি হস্তক্ষেপে ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে চারশোর বেশি গুম হয়েছে। দেড় হাজারে অধিক বিনা বিচারে হত্যা হয়েছে’, বলেন খন্দকার মোশাররফ।
ভবিষ্যতে ‘জনগণের সরকার’ ক্ষমতায় এলে গুমের ঘটনাগুলো বিচারের আওতায় আনবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এত বড় অন্যায়, এটা কেউ সহ্য করবে না। এজন্যই আপনারা (আওয়ামী লীগ) বলেন, আগামীতে ক্ষমতায় না এলে আপনাদের পিঠ বাঁচবে না। কারণ আপনারা জানেন, যে অন্যায় অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুন করেছেন সেজন্য আপনারা ভয় পাচ্ছেন। যদি ক্ষমতায় টিকে থাকতে না পারেন, এসব অপকর্মের খেসারত দিতে হবে। যখন জনগণের সরকার আসবে প্রত্যেকটি গুমের নির্যাতনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সরকার রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ ধ্বংস করে দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের মধ্যে নির্বাহী বিভাগকে সরকার দলীয়করণ করে ধ্বংস করে দিয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদকে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে ধ্বংস করা হয়েছে। আর প্রধান বিচারপতিকে প্রথমে অসুস্থ বানিয়ে পরে পদত্যাগে বাধ্য করার মাধ্যমে বিচার বিভাগ ধ্বংস করে দিয়েছে। উচ্চ আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আজকে বিচার পাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। এর মাধ্যমে তারা গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘এদেশের মানুষ এই সরকারের প্রতি বিক্ষুদ্ধ। আজকে নিত্যপ্রয়োজনীয় অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, গরিব মানুষের পকেট থেকে ভ্যাট নিয়ে সরকারের রাজস্ব ভরা হচ্ছে। আর সেখানে লুটপাটের মহড়া হচ্ছে। প্রত্যেক সিটিতে যেভাবে আবাসন কর আরোপ করা হয়েছে তা নজিরবিহীন। তাহলে মানুষ কেন তাদের প্রতি সদয় হবেন। জনগণ পরির্বতন চায়।’
একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এখন থেকেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির আহ্বান জানান খন্দকার মোশাররফ।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা সরকারি সুযোগসুবিধা নিয়ে নৌকায় ভোট চাইবেন আর আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতারা আদালতের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করবে, সেটি হবে না। এখন থেকেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।’
নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এটা আমাদের দাবি না আওয়ামী লীগেরই দাবি। সংসদ রেখে নির্বাচন করার কোনো নজির পৃথিবীতে নেই। সব জায়গায় সংসদ শেষ হওয়ার পরের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হয়। আর উনারা (আওয়ামী লীগ) তারা সংসদ ভাঙার আগের ৯০ দিনে নির্বাচন করতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এমনিতেই ক্ষমতা ছাড়বে না। আগামী নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে আওয়ামী লীগ। সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায় করতে হবে। সেজন্য আসন্ন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনগুলো আমরা দেখতে চাই। এটা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। কারণ আরেকটি একতরফা নির্বাচন হবে না। মানুষ রাস্তায় নেমে তাদের ভোটের অধিকার আদায় করে নেবে। এদেশের জনগণ ইতোমধ্যে সিগনাল দিয়ে দিয়েছে।’
আয়োজক সংগঠনের সভানেত্রী শাহনাজ আকতার বানুর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার প্রমুখ।