আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের গুজরাট রাজ্যে ২০০২ সালের জাতিগত দাঙ্গার নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে রাজ্যটির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অন্য ৫৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার গুজরাট হাইকোর্ট পিটিশন খারিজ করে বলেন, দাঙ্গার নেপথ্যে ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ ছিল না।
পিটিশনটি দাখিল করেন জাকিয়া জাফরি ও তিস্তা সিতলাবাদের এনজিও সিটিজেন ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস। তারা অভিযোগ করেন, ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায় মোদি ও অন্য ৫৭ জন উসকানি দিয়েছিলেন এবং তাদের ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ ছিল। তবে অভিযোগ আমলে নেননি গুজরাট হাইকোর্ট।
বিচারপতি সোনিয়া গোকানি তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, বিশেষ আদালতে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে এবং ওই আদালতে ‘গুলবার্গ সোসাইটি গণহত্যা’ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময় গুলবার্গ সোসাইটি জ্বালিয়ে দেয় দাঙ্গাকারীরা। সোসাইটিটির অধিকাংশ বাসিন্দা ছিল মুসলিম। ওই ঘটনায় জাকিয়া জাফরির স্বামী ও তৎকালীন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য এহসান জাফরিসহ ৬৯ জন নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ড গুলবার্গ সোসাইটি গণহত্যা নামে পরিচিত।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গুজরাট দাঙ্গায় নরেন্দ্র মোদি ও অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্ত করে। তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্ট অভিযোগ খারিজ করে রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আহমেদাবাদ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে জাকিয়া জাফরি পিটিশন করেন এবং ২০১৩ সালে তা খারিজ হয়। ২০১৪ সালে গুজরাট হাইকোর্টে পিটিশন করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার আবেদন খারিজ করলেও বিচারপতি সোনিয়া গোকানি বলেছেন, উচ্চ আদালতে নিম্ন আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করতেন পারেন জাফরি। কারণ বিশেষ তদন্ত দলকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা নেই হাইকোর্টের।

