ঢাকাThursday , 28 September 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাকিবকে ছাড়া কেমন করে বাংলাদেশ?

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ক্রিকেটের ধ্রুবতারা সাকিব আল হাসান। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্ব দরবারে রাঙিয়ে তুলেছেন রংধনুর সাত রং-এ।
দক্ষিণ আফ্রিকার আদুরে নাম ‘রংধনুর দেশ’। অথচ রংধনুর দেশটিতে নেই ধ্রুবতারা সাকিব! সাদা পোশাকে পচেফস্ট্রুমে পুরো বাংলাদেশ যখন দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাইছিল, তখন ক্যামেরা খুঁজে ফিরছিল দেশের সেরা ক্রিকেট তারকাকে। কিন্তু সেখানে নেই চিরচেনা হাস্যোজ্জ্বল মুখটি। সাকিবকে পেলে ক্যানভাসটি পূর্ণ রূপ পেত তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
টেস্ট থেকে ছয় মাসের ছুটি চাওয়া বাঁহাতি অলরাউন্ডারকে দুই টেস্টের সিরিজে বিশ্রাম দিয়েছে বিসিবি। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে সাকিব খেলবেন না। প্রশ্ন একটাই সাকিবকে ছাড়া কেমন খেলে বাংলাদেশ?
২০০৭ সালে সাকিবের অভিষেক ভারতের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ পর্যন্ত ৫১ টেস্টে ৩ হাজার ৫৯৪ রান ও ১৮৮ উইকেট তার নামের পাশে। বলার অপেক্ষা রাখে না শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও এ অর্জন অসাধারণ তকমা পেয়েছে। সাকিবের অভিষেকের পর বাংলাদেশ খেলেছে ৫৮ টেস্ট। এর মধ্যে কেবল ৭টিতেই ছিলেন না সাকিব।
ভারতের বিপক্ষে অভিষেকের পর টানা দুই টেস্টে দলে ছিলেন সাকিব। প্রথম তিন টেস্টে আশানুরূপ পারফরম্যান্স না থাকায় শ্রীলঙ্কা সফরের শেষ দুই টেস্ট থেকে বাদ পড়েন। সেটাও ২০০৭ সালে। বছরের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ড সফরে যায় বাংলাদেশ। বন্ধু তামিমের অভিষেক ম্যাচে সাকিব ছিলেন একাদশের বাইরে। তিন টেস্ট পর পারফরম্যান্সের কারণেই বাদ পড়েছিলেন আজকের সাকিব। তিন টেস্টে দলে থাকার মতো আহামরি কোনো পারফরম্যান্সই ছিল না। বল হাতে কোনো উইকেট পাননি, পাঁচ ইনিংসে রান করেছিলেন মাত্র ৯৬।
সাকিবের বাদ পড়ার পর যে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স পরিবর্তন হয়েছে, এমনটাও নয়। শ্রীলঙ্কায় দুই টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। একটি ইনিংসে তো বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল মাত্র ৬২ রানে! নিউজিল্যান্ডেও ভাগ্য পাল্টায়নি। সাকিবের না থাকার ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ৯ উইকেটের ব্যবধানে। নিউজিল্যান্ডে দ্বিতীয় ম্যাচে এনামুল হক জুনিয়রের পরিবর্তে দলে আসেন সাকিব। দলে ফেরার পর আহামরি পারফরম্যান্স না করলেও দলে টিকে যান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সাকিবকে।
প্রথম তিন টেস্টের পর পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়লেও পরের চার টেস্টে সাকিবের একাদশে না থাকার কারণ ভিন্ন।  ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে দলে ছিলেন না চোটের কারণে। গলে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ সাকিবকে ছাড়া কৃতিত্বপূর্ণ ড্র করে। ওই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিব ছিলেন না। বাংলাদেশ কলম্বোতে গিয়ে ম্যাচ হারে ৭ উইকেটে।
সাকিবকে ছাড়া ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যায় বাংলাদেশ। শৃঙ্খলাজনিত কারণে সাকিবকে ছয় মাস নিষিদ্ধ করে বোর্ড। নিষেধাজ্ঞার কারণে ইনফর্ম সাকিবকে ছাড়া খেলে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ওই সফরের আগের সফরেই সাকিব সিরিজসেরা হয়ে ২-০ ব্যবধানে বাংলাদেশকে জিতিয়েছিলেন। পরের সফরে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারে। একটি ম্যাচে ১০ উইকেটে, আরেকটি ম্যাচে ২৯৬ রানে হারে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে সাকিবের না থাকা ৭ ম্যাচের ৬টিতেই বড় ব্যবধানে হারতে হয় বাংলাদেশকে। ১টি ম্যাচ বাংলাদেশ ড্র করে। সেটা ২০১৩ সালে গলে। লঙ্কানদের করা ৪ উইকেটে ৫৭০ রানের জবাবে ৬৩৮ রান তোলে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হয়ে মুশফিকুর রহিম প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেন। মোহাম্মদ আশরাফুল ১৯০ এবং নাসির হোসেন ১০০ রান করেছিলেন। রান-বন্যার ম্যাচটি ড্র করে বাংলাদেশ। সাকিব এবার নেই ব্যক্তিগত চাওয়ায়। রংধনুর দেশে গল ফিরে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার।