নিজস্ব প্রতিবেদক : পানিবন্দী লাখ লাখ অসহায় মানুষের সঙ্গে যেন আওয়ামী লীগ উপহাস করছে বলে মনে করছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদ।
তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ জেলা বন্যায় ডুবছে আর আওয়ামী নেতারা সুপ্রীম কোর্টের রায় নিয়ে অশ্রাব্য ধারাবর্ষণ করছেন। মূলত: এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দিক থেকে দেশবাসীর দেশবাসীর দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার জন্যই তারা মূল সমস্যার বাইরে কথা বলছেন। বানবাসী মানুষের জন্য যেন সরকারের কিছুই করণীয় নেই। কারণ তারা তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন। তাই জনগণের প্রতি তাদের দরদ থাকবে না এটাই স্বাভাবিক।
মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
বন্যায় ভাসছে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল। ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পানিতে ডুবে যাচ্ছে একের পর এক এলাকা। যমুনার পানি বৃদ্ধি সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ২৭টি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দিনাজপুরে রেলপথ ও মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ এবং ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এছাড়া লালমনিরহাট, দিনাজপুর, নওগাঁ, জামালপুর ও সিরাজগঞ্জে ব্যাহত হয়েছে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ। কয়েকটি জেলায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় হু-হু করে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। বন্যায় তিন দিনে নারী শিশুসহ ৫৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
সারা দেশের বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বানের পানিতে হাজার হাজার নারী শিশু ও সাধারণ মানুষ ডুবে যাচ্ছে, লাখ লাখ মানুষ গৃহহারা, আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নেই, খাবার নেই, আবার কোথাও কোথাও আশ্রয়ও ডুবে যাচ্ছে, অনেক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে অথচ আওয়ামী লীগের নেতারা বন্যাদূর্গতদের পাশে না দাঁড়িয়ে গণভবন-বঙ্গভবনে দৌড়ঝাঁপ করছেন।
দায়সারা একটি প্রেস রিলিজ দিয়ে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা নিজেদের দায়িত্ব শেষ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন রিজভী।
দেশে খাদ্যের কোন অভাব নেই ত্রাণ মন্ত্রী তোফাজ্জল হোসেন মায়ার এ বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা শুধু মুখে কথা বলে অথচ সরকারের খাদ্যের গোডাউন শুণ্য। বানভাসীরা না পাচ্ছে আশ্রয়, না পাচ্ছে ত্রাণ। চারিদিকে খাদ্য ও আশ্রয়ের অভাবে বানভাসীরা হাহাকার করছে।
আমি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় নেতা-কর্মীসহ দেশের সকল বিত্তবানদের বন্যাদূর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আবারও আহবান জানাচ্ছি। আপনারা ডুবন্ত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ান, তাদেরকে বাঁচান।
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তনের জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অলিম্পিক প্রতিযোগিতার ন্যায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক শুধু উদ্বেগের নয় ন্যায়বিচারের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করার অশুভ অপচেষ্টারই অংশ।
রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের দৌড়ঝাঁপের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে জোর করে রায় পাল্টিয়ে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে তা বিচারবিভাগের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপের সামিল।
আওয়ামী লীগ গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে ম্যানুফ্যাকচার্ড জনমত তৈরীর চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি দলীয় এমপি’দের দ্বারা নির্বাচিত হলেও নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠানটি একটা স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করে এবং তিনি তখন রাষ্ট্রের অভিভাবকে পরিণত হন, আওয়ামী লীগের নন।
এসময় আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বৈঠক হতেই পারে, কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক কিভাবে সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন ? তাহলে আওয়ামী লীগ সরকার কী তাদের ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে ব্যবহার করছেন ? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের দলের সিদ্ধান্ত তাঁকে জানাতে যাওয়া ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করা, এটি রায়ে পরিবর্তন আনতে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে জনগণের মনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নির্বাহী বিভাগের নগ্ন হস্তক্ষেপ।
তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর আওয়ামী লীগের নেতারা যেভাবে বিচারপতিদের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন, আবার বৈঠক করছেন, এটাকে দেশবাসী স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করেন না। তারা বিচার ভিাগকে বিতর্কিত করতে নিজেদের ঘুম হারাম করে ফেলেছেন। এটি শুভ লক্ষণ নয়।
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশের পর রায় সংশোধন করতে আওয়ামী লীগের বলপ্রয়োগের দৃশ্য জনগণ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবে না বলেও জানান তিনি।
একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জন্য স্বাধীনভাবে জনগণের ভোটের মাধ্যমে পার্লামেন্ট গঠন সম্ভব হয়নি। এদেশে আর একক কর্তৃত্ববাদী শাসন, গণতন্ত্র হরণ আর বিরোধী দল ও মত নিধন চলতে দেয়া হবে না। আর ভোটারবিহীন বর্তমান পার্লামেন্ট ও সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের উচ্চারণ কখনোই থামবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএনপির এই নেতা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ প্রমুখ।

