ঢাকাWednesday , 2 August 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প-টিলারসনের ভিন্নমত

Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন ভিন্নমত পোষণ করছেন। চুক্তি প্রত্যাহারে ট্রাম্প ইচ্ছা প্রকাশ করলেও টিলারসন চাইছেন আন্তর্জাতিক এই চুক্তি ব্যবহার করে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করতে, যাতে ইরানকে বাগে রাখা যায়।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে টিলারসন বলেন, ‘জেসিপিওএর মতো বিষয়ে এবং কীভাবে আমরা এর ব্যবহার করতে পারি, তা নিয়ে তার (ট্রাম্প) ও আমার দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে।’ উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্লান ফর অ্যাকশন (জেসিপিওএ)।
টিলারসন বলেন, ওয়াশিংটন এই ‘চুক্তি ভেঙে দিয়ে চলে আসতে পারে’ অথবা চুক্তিতে থাকতে পারে এবং ইরানকে চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করতে পারে; যাতে ইরান ‘ভালো প্রতিবেশী’ হিসেবে ব্যবহার করে। তিনি আরো বলেন, এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এই চুক্তি বাস্তবায়নে কীভাবে প্রশাসনিক নীতি প্রয়োগ করা যায়, তা নিয়েও কথা হয়েছে।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল করবে যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির ঘোর বিরোধী ইসরায়েল। নির্বাচনে ইসরায়েলের সমর্থন দরকার ছিল তার। কিন্তু বাস্তব চিত্র হুমকি দেওয়ার মতো সহজ নয়, যা টিলারসনের কথায় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া। চুক্তির মূল বিষয়বস্তু হলো : ইরান তাদের পরমাণু কার্যক্রম সীমিত রাখবে বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এখনো পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভাঙার অভিযোগ ওঠেনি, বরং ইরান চুক্তি মানছে বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে নতুন করে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার পর পরমাণু কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করার হুমকি দিয়েছে তেহরান। এভাবে চলতে থাকলে চুক্তির ভবিষ্যৎ শূন্য হবে- এটাই স্বাভাবিক।
তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনের সুপারিশে এখনো পরমাণু চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেননি ট্রাম্প। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় সেনা পাঠিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে অস্ত্র সরবরাহ করে এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে ইরান এরই মধ্যে চুক্তি নাজুক করে দিয়েছে।
এদিকে, টিলারসনের বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স অনলাইন।
গতমাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার অনুমান আগামী অক্টোবরের মধ্যে পরমাণু চুক্তিতে শর্ত লঙ্ঘনকারী হিসেবে ঘোষিত হবে ইরান। তবে তার আগেই তিনি তা করতে চান।
তবে টিলারসন মঙ্গলবার তার ব্রিফিংয়ে ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে আরো সূক্ষ্ম সুবিধা পাওয়ার কথা বলেছেন। ভিন্ন উপায়ে চুক্তিটি ব্যবহার করে এর সফলতা পেতে চান তিনি।