ক্রীড়া ডেস্ক : স্বপ্নের মধ্যে কতোবার যে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবে পূরণ হয়নি এখনো। ৩০ বছর বয়সে এসে যখন সেই স্বপ্নপূরণের দরজায় দাঁড়িয়ে তখন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের আনন্দ দেখে কে! কে জানে, প্রস্তাবটা পাওয়ার সাথে সাথে দু পাক নেচে নিয়েছিলেন কি না! পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতিয়ে এবার জাতীয় বীরে পরিণত হওয়া সরফরাজ ইয়র্কশায়ারের হয়ে স্বপ্নের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলবেন এই মৌসুমে। এখন সেই উত্তেজনায় ছটফট করছেন। ন্যাটওয়েস্ট টি-টুয়েন্টি ব্ল্যাস্টে খেলার যে সুযোগ পেয়েছেন তার পুরোটা কাজে লাগাতে উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষায় সরফরাজ।
ইংল্যান্ডেই জুনে সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান জিতেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সরফরাজেন নেতৃত্বে। তারপর কাউন্টিতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের রীতিমতো মেলা বসে যাচ্ছে। টি-টুয়েন্টি ব্ল্যাস্টে শেষ সংযোজন পাকিস্তানের তিন সংস্করণের অধিনায়ক সরফরাজ। তার বিশ্বাস ইংল্যান্ডের এই কাউন্টি স্বপ্নপূরণে আরো বেশি পেশাদার হয়ে উঠতে পারবেন, ‘আমি সবসময় কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতে চেয়েছি। ইয়র্কশায়ারে খেলার সুযোগ যখন এলো তখন এমন অসাধারণ প্রস্তাবে আর না করতে পারিনি।’ সরফরাজ মনের আনন্দে পাকিস্তানের একটি সংবাদপত্রকে বলছিলেন, ‘আমার জন্য এটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। আশা করি ইয়র্কশায়ারের হয়ে খেলাটা আমাকে আরো পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’
সম্প্রতি পাকিস্তানের টেস্ট নেতৃত্বও পেয়ে যাওয়া উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান সরফরাজ ২৭ জুলাই যোগ দেবেন ইয়র্কশায়ার দলে। এখন ইংল্যান্ডের ভিসার অপেক্ষায়। ওখানে এই মৌসুমে ৫টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন। এই ইয়র্কশায়ারেই আগে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছেন ইনজামাম উল হক, ইউনিস খানের মতো পাকিস্তানি কিংবদন্তি। তাদের পদচিহ্ন রেখে আসা ক্লাবের সাথে নাম লেখাতে পারছেন বলেই সরফরাজের আনন্দের আকাশটা আরো বড় হয়ে উঠেছে, ‘ইয়র্কশায়ার বিরাট ক্লাব, বিশাল তাদের নাম। ইউনিস খান আর ইনজামাম উল হকের মতো কিংবদন্তিদের পথ ধরে আমিও হেডিংলিতে খেলতে যেতে পারছি বলে গর্ব হচ্ছে।’
পিটার হ্যান্ডসকম্ব বাংলাদেশের টেস্ট সফরে অস্ট্রেলিয়ার সাথে থাকবেন। বিদেশি কোটায় ইয়র্কশায়ারে তার জায়গাটি সরফরাজের। ২০১৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ২০ ওভারের ক্রিকেটে পাকিস্তানের নেতৃত্ব পেয়েছেন সরফরাজ। তারপর একে একে বাকি দুটি। প্রথমবারের মতো কাউন্টিতে খেলতে গিয়ে মোটে ৫টি ম্যাচ পাবেন। তবু প্রত্যেকটা সুযোগ শতভাগ কাজে লাগানোর পণ পাকিস্তানকে ৮ টি-টুয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়ে ৭টিতেই জেতানো সরফরাজ, ‘৫ ম্যাচের মধ্যে যতো পারি দলকে জেতানোর চেষ্টায় থাকবো। সমর্থকদেরও আমি খেলা দিয়ে বিনোদন দিতে চাই। খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে আমি রোজ শিখছি। টি-টুয়েন্টি ব্ল্যাস্টের এই শিক্ষাটাও হবে অসাধারণ।’

