ঢাকাSaturday , 1 July 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জঙ্গি নির্মূলে সমন্বিত উদ‌্যোগের আহ্বান বিএনপির

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : জঙ্গি নির্মূল কার্যক্রমকে ‘জাতির সামগ্রিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে এজন‌্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। সমন্বিত উদ‌্যোগ ছাড়া জঙ্গি নির্মূল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নাও হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
শনিবার সকালে গুলশানে হলি আর্টিজেন রেস্তোরাঁয় নিহতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর গণমাধ‌্যমের কাছে এসব কথা বলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।
রিজভী বলেন, ‘এই দেশ ও জাতির জন্য আজকের দিনটি একটি কালো অধ্যায়। দেশ-বিদেশের এতোগুলো মানুষ উগ্রবাদী জঙ্গিদের হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া এটি নিসন্দেহে আমাদের যে আবহমান বাংলার যে সংস্কৃতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং দেশের যে এগিয়ে চলা, আমরা যে সম্প্রীতির পক্ষে, প্রগতির পক্ষে, অগ্রগতির পক্ষে সেখানে কলঙ্ক তিলক তারা এঁকে দিয়েছিলো।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম এ ব্যাপারে একটা সামগ্রিক ও সমন্বিত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশের মধ্যে বিভিন্নভাবে যে উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক চেপে বসেছে, সেটিকে উৎখাত করা হবে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের দিক থেকে এই ধরনের কোনো সমন্বিত উদ্যোগ আমরা দেখিনি।’
গত বছর ১ জুলাই রাতে বিদেশিদের কাছে আকর্ষণীয় গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা করে পাঁচ জঙ্গি। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বোমা হামলায় নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। ওইদিন রাত পেরিয়ে সকালে ঘটনাস্থলে কমান্ডো অভিযানে হামলাকারী পাঁচ তরুণ ও ক্যাফের এক পাচক নিহত হন। ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনের লাশ।
আজ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কার্য্ক্রম প্রসঙ্গ টেনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যতবারই শুনেছি যে ক্ষমতাসীনরা নির্মূল করছেন, তারপরও দেখা গেছে যে কোথাও না কোথাও উগ্রবাদ তার হিংস্র থাবা মেলেছে, তার হিংস্র কামড় দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এটি কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের কাজ নয়। এটি হচ্ছে জাতির সামগ্রিক পদক্ষেপের একটি বিষয়। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। আমাদের দীর্ঘদিনের যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, ভালোবাসা দেশ, একে অপরের প্রতি শুভেচ্ছাবোধের দেশ, আমাদের সেই ঐহিত্য আর কোনোভাবে যাতে ম্লান না হতে পারে, সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখা, সেই হিসেবে সবাইকে কাজ করা।’
হলি আর্টিজেনের ঘটনার তদন্ত ও অভিযোগপত্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এই যে ঘটনা এখনো অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি, কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বা প্রশাসন এখানে কী ধরনের কাজ করছে, আমরা বলতে পারছি না। আমরা আগে বলেছি, এ ব্যাপারে সমন্বিত উদ্যোগে নেওয়া হতো, বিষয়টি বিশ্লেষণ করে, তদন্ত করা যেতো- এদের গুহাগুলো কোথায়, এদের নেটওয়ার্ক কোথায়- এটি যদি অনুসন্ধান করে চিহ্নিত করা যেতো তাহলে আর পুনরাবৃত্তি হতো না, আর এ সমস্ত ঘটনা হতো না।’
‘আমরা চাই, কোনো ধরনের যেন রহস্য তৈরি না হয়। বাইরের বিভিন্ন সংগঠন বলছে এটা আইএস আইএস করছে, সরকার বলছে না। এগুলোর মধ্য দিয়ে যে রহস্য দানা বেঁধেছে, সেই রহস্য এবং কুঞ্জটিকা সরানোর দায়িত্বও হচ্ছে সরকারের। এগুলো মানুষের মন থেকে সব শঙ্কা ও আশঙ্কা দূরীভূত করার দায়িত্ব ক্ষমতাসীনদের, তারা এই কাজটি করবে’, বলেন বিএনপির এই নেতা।
দেশে উগ্রবাদের অন্ধকার ছোবল যাতে না হয়, উগ্রবাদীরা বিষাক্ত ছোবল যাতে না দিতে পারে, সেজন‌্য যথাযথভাবে সেটি চিহ্নিত করা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান রিজভী।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্ব ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজেন প্রাঙ্গণে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন-দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, জাসাসের রফিকুল ইসলাম তালুকদার, শায়রুল কবির খান ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবদুল্লাহ আল মামুন।