ঢাকাFriday , 30 June 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশু সামিউল হত্যার বিচার হোক, আর চান না বাবা

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা শিশু সামিউল হত্যা মামলার বিচার থমকে আছে। সাত বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারিক আদালতে শুনানিই শেষ হয়নি। এর মধ্যে আবার জামিন পেয়ে পালিয়ে গেছেন মামলার প্রধান আসামি শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কু। আরেক আসামি সামিউলের মা হুমায়রা এশা জামিনে বেরিয়ে এসে দুই বছর ধরে মামলার বাদী ও সামিউলের বাবা খন্দকার আজমের সঙ্গেই সংসার করছেন।
গত ১২ জুন মামলাটির ধার্য তারিখ ছিল। এ মামলায় এ পর্যন্ত অধিকাংশ স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। তবে কবে রায়ের পর্যায়ে আসবে, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।
২০১০ সালের ২৩ জুন প্রথমে সামিউলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গুম করতে ফ্রিজে ঢোকানো হয়। পরে তা বস্তায় ঢুকিয়ে ২০১০ সালের ২৪ জুন রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। রাজধানীর মোহাম্মদপুর নবোদয় হাউজিংয়ের গ্রিনউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ইংলিশ মিডিয়ামে প্লে গ্রুপের পড়তো সামিউল।
সে সময় তার হত্যার ঘটনাটি নিয়ে আলোড়ন উঠে দেশজুড়ে। গণমাধ্যম একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই ঘটনাটি নিয়ে। আর পুলিশ দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেয়।
সামিউল হত্যার পর নিজের স্ত্রী এবং তার কথিত বন্ধু শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কুকে আসামি করে মামলা করেন শিশুটির বাবা খন্দকার আজম।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে কারাগারে থাকা স্ত্রী এশার বিরুদ্ধে বাদী আজম আদালতে সাক্ষ্যও দিয়েছেন। কিন্তু ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর তিনিই স্ত্রীকে জামিনে মুক্ত করতে আদালতে একটি এফিডেভিট দেন। চলতি বছর ২ এপ্রিল ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ দায়রা জজ আমিনুল হক তার জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়ার পর তারা রাজধানীর কচুক্ষেত এলকায় এক সঙ্গে বাসা নিয়ে সংসার করছেন খন্দকার আজম ও আয়েশা হুমায়রা এশা।
স্ত্রীকে জামিনে বের করার জন্য আদালতে দেওয়া এফিডেভিট কে এম আজম উল্লেখ করেন, আমি এবং আমার স্ত্রী এশার মধ্যে এখনো স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক বিদ্যমান। বর্তমানে আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ। আমাকে দেখার মতো কেউ না থাকায় আমার সেবাযত্নের জন্য আমার স্ত্রীর পাশে থাকার প্রয়োজন বোধ করছি। তাই প্রয়োজনে আমার জিম্মায় তার জামিন মঞ্জুর করা হোক।’
আদালত এই এফিডেভিটের ভিত্তিতে এবং দ্রুত মামলাটির নিষ্পত্তি না হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় জামিন মঞ্জুর করে।
এ ব্যাপারে খন্দকার আজম মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি কিডনি রোগে আক্রান্ত। আমাকে দেখার মত কেউ নেই। আমি যখন হাসপাতালে ছিলাম তখন আমার শ্বশুর-শাশুড়ি হাসপাতালে যান। তারাই আমাকে বুঝিয়েছেন। তাই স্ত্রীকে জামিন করিয়েছি এবং বর্তমানে রাজধানীর পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকায় বাসা নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করছি।’
সামিউলের বাবা জানান, তার স্ত্রী এশার আইনজীবী একজন সাবেক জজ এবং বর্তমান বিচারক (আমিনুল হক) ভায়রা ভাই। তারা মিলে জামিনটা করিয়ে দিয়েছেন।
স্ত্রীর সাজা চান কি না এ প্রশ্নের জবাবে আজম বলেন, ‘পাঁচ বছর তো সাজা খেটেছেন। এটাতেই একজন মেয়ে মানুষের পানিশমেন্ট (সাজা) হয়ে গেছে। বিচারকও তাই বলেছেন। তাই বাস্তবিক অর্থে এখন আর তার সাজা চাই না।’
মামলার অপর আসামি এশার কথিত বন্ধু শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কু ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেই লাপাত্তা হয়ে যান তিনি।
২০১০ সালের ২২ জুন নিহত সামিউল বাসার সামনে খেলতে গিয়ে নিঁখোজ হয়। দুই দিন পর সামিউলের মরদেহ আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই দিন শিশুটির বাবা আদাবর থানায় মামলা করেন। এতে তিনি তার স্ত্রী এশা ও তার কথিত বন্ধু বাক্কুকে আসামি করেন। পরে পুলিশ দুই জনকেই গ্রেপ্তার করে এবং তারা দুই জনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাহান হক ২০১২ সালের ২৫ অক্টোবর এশা ও বাক্কুর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। মামলাটিতে ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে দুই আসামির বিচার শুরু হয়।
মামলাটিতে বাদী, ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক এবং তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ২০০৩ সালের আজমের সঙ্গে এশার বিয়ে হয়। এরপর থেকে তারা আদাবর থানাধীন ৮ নম্বর রোর্ডের নবোদয় হাউজিং এর ৭ নম্বর বাসার ৫ম তলার ৫/এ ফ্লোরে থাকতেন। এ সময়ই বাক্কুর সঙ্গে পার্লারে এশার পরিচয়। পরে বাক্কুর সঙ্গে এশার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। স্বামীর অজান্তে বাক্কুকে ১৫ লাখ টাকা ধারও দেন এশা। আর বাক্কুর সঙ্গে এশার ঘনিষ্ঠতা দেখে ফেলায় খুন করা হয় সামিউলকে।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশেষ জজ আদালতের স্পেশাল পিবি ফারুকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘এই মামলায় সামিউলের বাবা তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন। এখন আর সমঝোতা করার কোন সুযোগ নেই। এই মামলায় স্বাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষের দিকে।’