সাভার প্রতিনিধি : আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অটোরিকশা চালান মো. শামীম সিকদার (৩৫)। জীবিকা নির্বাহ করতে কিস্তি দিয়ে তিনি এই অটোরিকশাটি কিনেছিলেন। শুক্রবার (৩০ জুন) দুপুরে মহাসড়কে অটোরিকশা চালানোর অপরাধে পুলিশ তার রিকশার ব্যাটারি খুলে নিয়ে যায়। অনেক আকুতি-মিনতি করেও পুলিশের কাছে রিকশার ব্যাটারি ছাড়াতে না পেরে নিজের শেষ সম্বল হারিয়ে গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন শামীম।
আগুনে শামীমের শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অটোরিকশা চালক শামীম বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ থানার ভাইজোড়া গ্রামের শাজাহান সিকদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঈদের ছুটি শেষে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে শুক্রবার দুপুরে অটোরিকশা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যাত্রী নিয়ে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন শামীম। এসময় মহাসড়কে কর্তব্যরত সার্জেন্ট আমিনুর রহমান ও ট্রাফিক সদস্য মহাসড়কে অটোরিকশা চালানোর অপরাধে তার রিকশার ব্যাটারি খুলে নিয়ে চলে যায়।
অভিযোগ উঠেছে, ব্যাটারি ফেরত দেওয়ার জন্য ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা তার কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করেন। অটো চালকের কাছে দুই হাজার টাকা না থাকায় সে ওই ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের কাছে রিকশার ব্যাটারি ফেরত পেতে অনেক আকুতি-মিনতি করেন। কিন্তু এতে পুলিশের সদস্যরা রিকশার ব্যাটারি দিতে রাজি না হলে শামীম সেখান থেকে চলে যায়।
কিছুক্ষণ পরই হাতে কেরোসিনের বোতল নিয়ে আবারও ফিরে আসেন ওই চালক। ফিরে এসে পুলিশদের জানায়, তাকে রিকশার ব্যাটারি না দিলে সে কেরোসিন দিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেবেন। কিন্তু কর্তব্যরত সার্জেন্ট ও ট্রাফিক পুলিশ তাতেও ব্যাটারি দিতে রাজি হননি। এরপরই বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে প্রকাশ্যে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন অটো চালক শামীম। এতে তার শরীরের প্রায় ২৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ শাফিউর রহমান মিজান বলেন, ‘এ ঘটনায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কোনও গাফিলতি আছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও ওই চালকের চিকিৎসার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।’

