নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। বাবলু বলেছেন, এটা উন্নয়নের মহাসড়কের বাজেট নয়। সীমাহীন করের মহাসড়কের বাজেট। এ থেকে মুক্তি চাই। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘অনেক হয়েছে। অনেক বছর বাজেট দিয়েছেন। আর কি দরকার। মুক্তি দেন দেশের ১৬ কোটি মানুষকে। পদত্যাগ করে বিদায় দেন।’
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর মঙ্গলবার সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বাবলু বলেন, ‘আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে আছি নাকি লুটপাটের মহাসড়কে আছি। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললে কি দেখতে পাই। পত্রিকায় যা লেখা হয় সেগুলো কোনো গল্প নয় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট। শুধু প্রবৃদ্ধি দিয়ে অর্থনীতির স্বাস্থ্য বোঝা যায় না। এজন্য দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ, আইনের শাসন, শক্তিশালী পুজিঁবাজার ও ব্যাংক ব্যবস্থা ইত্যাদি সঠিকভাবে চললেই বোঝা যায় অর্থনীতির স্বাস্থ্য ভালো আছে। কিন্তু আমরা কি দেখতে পাচ্ছি ? ব্যাংকিং সেক্টরে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৪২ হাজার কোটি টাকা অবলোপন করেছেন। কার টাকা অবলোপন করেছেন ? ব্যাংকে সরকার কোনো টাকা রাখে না, টাকা রাখে আমানতকারীরা। আমানতকারীদের টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচার হচ্ছে। অর্থনীতির আরো একটি শক্তি ব্যারোমিটার পুজিঁবাজার কারা ধ্বংস করেছে। এ বিষয়ে সরকারের গঠিত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।ওই টাকা আদায় করতে পারলে করদাতাদের বাড়তি কর দিতে হতো না। এসব বিষয় বাজেট বক্তৃতায় নেই।’
তিনি বলেন, ‘যারা লুটপাট করছে তারা কি সরকারের চেয়েও শক্তিশালী। তাদের বিরুদ্ধে দুদক কিছু পাচ্ছে না। অথচ দেশের মানুষ জানে কারা এসব করছে। অপরাধীদের বিচার হচ্ছে না। তাদের বিচার দাবি করছি। অন্যদিকে ব্যাংক হিসেবের উপর আবগারি শুল্ক কেন বসানো হয়েছে। ব্যাংক আমানত কি কোনো ক্ষতিকর বিষয়। অর্থমন্ত্রী কি চান না যে, ব্যাংকে কেউ টাকা রাখুক?’
ব্যাংকিং খাতের মূলধন ঘাটতি পূরণে বাজেটে ২ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করে বাবলু বলেন, ‘ট্যাক্স পেয়ারের ২ হাজার কোটি টাকা উনি ব্যাংকিং খাতের ঘাটতি পূরণে দিচ্ছেন। মানুষের টাকা দিয়ে লুটপাটের টাকা পূরণ করছেন? এটা কোনও নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না। এ টাকা উনি শিক্ষা-স্বাস্থ্য বা অন্য কোনও খাতে দিতে পারতেন। কেন আপনি ২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনের দেবেন। আগের তিন অর্থ বছরেও আপনি টাকা দিয়েছেন। সরকার তাদেরকে টাকা দিতে যাবে কেন? অর্থমন্ত্রীর এই টাকা দেওয়ার কোন অধিকার নেই। ট্যাক্স পেয়ারের মানি দিয়ে লুটের টাকার ঘাটতি পূরণের কোন অধিকার কারো নেই।’

