ঢাকাFriday , 12 May 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজশাহীতে ‘জঙ্গিবিরোধী’ অভিযান ‘সান ডেভিল’ সমাপ্ত

Link Copied!

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বেনীপুরের জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন ‘সান ডেভিল’ শেষ হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পৌনে একটায় পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক নিশারুল আরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিহত পাঁচ জঙ্গির মরদেহ আস্তানার পাশের কেটে নেওয়া ধানের জমি থেকে উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়। প্রায় ২৯ ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে মরদেহগুলো পড়ে থাকায় সেগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় উৎকট গন্ধ ছড়াচ্ছিল।
মরদেহ নিয়ে যাওয়ার আগেই আস্তানার পাশের একটি ধানে খেতে অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অতিরিক্ত ডিআইজি নিশারুল আরিফ। তার ব্রিফ শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে অভিযানের সময় বিস্ফোরণে নিহত জঙ্গিরা হলেন বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেন (৫০), তার স্ত্রী বেলী বেগম (৪৫), তাদের ছেলে আল-আমিন (২০), মেয়ে কারিমা খাতুন (১৭) ও আশরাফুল ইসলাম (২৩)। আশরাফুল ইসলাম ছাড়া বাকি সবাই একই পরিবারের সদস্য। আশরাফুলের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চর চাকলা গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুল হক।
পুলিশ জানিয়েছে, আশরাফুল ইসলাম একজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার বলে জানা গেছে। তিনি বড় ধরনের জঙ্গি বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আত্মগোপন অথবা প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য তিনি এই বাড়িতে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের ব্রিফকালে অতিরিক্ত ডিআইজি নিশারুল আরিফ বলেন, গোয়েন্দা সূত্রে তারা জঙ্গি আস্তানাটির খবর পান। এরপরই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। ভেতরের জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের সুযোগও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আত্মসমর্পণ না করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ তখন গুলি চালায়। তবে নিহত পাঁচ জঙ্গির সবাই সুইসাইডাল ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে।
নিশারুল আরিফ জানান, বাড়ি থেকে ১১টি বোমা, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বোমাগুলো মাটির নিচে পুঁতে বিস্ফোরিত করা হয়েছে। এছাড়া বাড়ি থেকে পুলিশের পোশাকের কাপড়, সুইসাইডাল ভেস্টের বেল্ট, গানপাউডার, বোমার সুইচ ও কিছু জিহাদি বইসহ নানা ধরনের আলামত জব্দ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, ‘আশরাফুল বড় মাপের জঙ্গি। আর বাড়ির মালিক সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী মাঝারি মাপের। সাজ্জাদের ছেলে আল-আমিন ওরফে হামজা ও মেয়ে কারিমার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা কতদূর তা জানতে অনুসন্ধান চলছে। সাজ্জাদের আরেক ছেলে সোয়েবকেও সন্দেহভাজন জঙ্গি হিসেবে ধরা হচ্ছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।’
বাড়ি থেকে আত্মসমর্পণ করা সাজ্জাদের মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে জানিয়ে নিশারুল আরিফ বলেন, প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানিয়েছে, বাড়ির পাশের ফাঁকা মাঠে জঙ্গিদের নানা প্রশিক্ষণ চলতো।
একই পরিবারের নিহত চারজনের মরদেহ পরিবার নিতে রাজি না হওয়ায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হবে। তবে জঙ্গি আশরাফুলের ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে লাশ ও আলামত সংগ্রহ করার পর আস্তানাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারাও ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। বাড়িটির আশপাশে এখনও সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে প্রত্যাহার করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে মাটিকাটা ইউনিয়নের বেনীপুর গ্রামের সাজ্জাদ আলীর বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। এরপর ভেতরের জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু জঙ্গিরা এতে সাড়া দেয়নি। পুলিশ তখন ফায়ার সার্ভিসকে ডেকে পানি ছিটিয়ে বাড়ির পেছনের মাটির দেয়ালটি ধসিয়ে ফেলতে তৎপরতা শুরু করে।
এ সময় জঙ্গিরা বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী নিহত হন। আর আহত হন দুই পুলিশ সদস্য। এরপর পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিহত সাজ্জাদের বড় মেয়ে সুমাইয়া (২৫) আত্মসমর্পণ করেন। ওই সময় জঙ্গি আস্তানার পাশ থেকে সুমাইয়ার দুই শিশু সন্তানকেও উদ্ধার করে পুলিশ। সুমাইয়ার স্বামী জহরুরুল ইসলামকে প্রায় ছয় মাস আগেই জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ও এক ফায়ার সার্ভিসের কর্মী নিহত হলেও বাড়ির ভেতরে অভিযান চালানো হয়নি। অপেক্ষা করা হচ্ছিল ডিএমপির বোমা বিশেষজ্ঞ দলের জন্য। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তারা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা আসতে দেরি করায় ওই রাতে অভিযান স্থগিত করা হয়। এ অভিযানে পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো বাহিনী যোগ দেয়নি।
শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় ‘অপারেশন সান ডেভিল’। এ অপারেশনের মধ্যে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমবারের মতো একতলা টিনের ওই বাড়িটিতে ঢোকে। অভিযান চলে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।