ঢাকাThursday , 11 May 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খালেদা জিয়ার প্রস্তাব ফাঁকা বুলি

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ প্রস্তাব ফাঁকা বুলি ছাড়া আর কিছুই না। এই প্রস্তাব দেওয়ার আগে তাদের শাসন আমলের অপকর্মের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ ছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদার জিয়ার ভিশন-২০৩০-এর জবাব দিতে তিনি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কাছ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব শোনা মানে ডাকাতের কাছ থেকে দেশ গড়ার কথা শুনতে পাওয়া। দেশ ও জাতি এই ধরনের ডাকাতের কাছ থেকে দেশ গড়ার কথা শুনতে চাই না।’
তিনি আরো বলেন, দেশের জনগণ বিএনপি-জামায়াতের খুন, আগুন সন্ত্রাস ও অতীত অপকর্মের কথা ভুলে যায়নি। এসব অপকর্মের জন্য তাদের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।
মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিবন্ধের কথা বলার আগে বেগম জিয়ার দুই পুত্রের প্রমাণিত দুর্নীতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত ছিল। তার সময়ে হাওয়া ভবনে যে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে দুর্নীতিকে একটি শিল্প বা ‘অর্গানাইজড সিস্টেমেটিক সিন্ডিকেটেড করাপশন অ্যাজ এন আটর’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল, দলবাজ-দুর্নীতিবাজ-পরিবারবাজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, আগে তার কৈফিয়ত প্রয়োজন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ছাড়া নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের ফাঁকা বুলি আওড়ানো ষড়যন্ত্রের সামিল’।
‘দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে’ এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘দেশ সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে, নিয়মিত নির্বাচন হচ্ছে। বিএনপিই তাদের ইচ্ছেমতো নির্বাচন করা ও বর্জন করার স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলেছেন, কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে পারেননি। সংবিধানের ১৫ ও ১৬ তম সংশোধনী পর্যালোচনা করবেন বলেছেন, কি করবেন বলেননি। সেখানে সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেওয়া স্বীকৃতি পরিবর্তন করবেন কি না বা সংবিধানের চারনীতির বিষয়ে তার কি অবস্থান, তাও পরিস্কার করেননি।
বেগম জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নামে জিয়া এবং খালেদা জিয়া পার্বত্য চট্টগ্রামে যে দমননীতি চালান, সাম্প্রদায়িকীকরণের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করেন, বাঙালি জাতীয়তা এমনকি ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাসমূহের পরিচয়ও অস্বীকার করেন, তার জবাবও তিনি দেননি।’
‘খালেদা জিয়ার মুখে বিচারের অধিকার অস্বীকার বা ডিনায়াল অভ জাস্টিস এর অভিযোগ মানায়না’ উল্লেখ করে ইনু বলেন, ‘জিয়া ও খালেদা জিয়াই বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের, রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করেছিল, খুনীদের পুরস্কৃত করেছিল, হত্যার বিচার যাতে না হয় সেজন্য দায়মুক্তির ঘৃণ্য বিধান করেছিল। খালেদা জিয়ার আমলে অপারেশন ক্লিনহার্টে নিহতদের বিচার বন্ধে দায়মুক্তি দেওয়া, শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রচেষ্টায় একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় ধামাচাপা দেওয়া বিএনপির মুখে এ ধরনের কথা ভূতের মুখে রামনাম।
বিএনপিনেত্রীর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ চালানোর প্রস্তাবের বিষয়ে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রু রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে পুণর্বাসনকারী জিয়া-খালেদা জিয়াই মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের গাড়িতে দেশের পতাকা তুলে দিয়েছিল, জামায়াতকে সাথে নিয়ে চালিয়েছিল হত্যা-ধ্বংসযজ্ঞ। তাই তিনি কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ চালাবেন’, প্রশ্ন করেন তথ্যমন্ত্রী।
বেগম জিয়ার কৃষকবান্ধব মন্তব্যের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আমলে সার-মাফিয়া চক্র তৈরি হয়েছিল, কৃষকরা ছিল নিগৃহীত, চক্রান্তের স্বীকার। সতেরজন কৃষক হত্যার ঘটনা জাতি এখনও ভোলেনি।’
তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে বেগম জিয়ার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম জিয়ার কারণেই জাতি ১৯৯১ সালে সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। ডিজিটাইজেশন তার পছন্দ নয়। তার মুখে তথ্যপ্রযুক্তির কথা হাস্যকর।’
‘বড় কথা বলার আগে খালেদা জিয়াকে নিজ শাসনামলে হত্যা-দুর্নীতিসহ সকল দুষ্কর্মের কৈফিয়ত দিতে হবে ও জাতির কাছে মাফ চাইতে হবে’ বলে জানান তিনি।