ঢাকাThursday , 13 April 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাহাড়ে বাজছে বৈসাবি’র মাদল

Link Copied!

Khagrachhariখাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : পাহাড়ে বাজছে বৈসাবি’র মাদল। আদিবাসীরা বর্ষবরণ উৎসব পালন করে বিভিন্ন নামে। বর্ষবরণ উৎসবকে ত্রিপুরারা বৈসু, মারমারা সাংগ্রাই ও চাকমারা বিঝু বলে অভিহিত করে। বৈসু, সাংগ্রাই ও বিঝু একত্রে বৈসাবি নামে পরিচিত।
পাহাড়ে বসবাসরত জাতিগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি। খাগড়াছড়িতে বসবাসরত চাকমা সম্প্রদায় গতকাল বুধবার ভোরে স্থানীয় নদী-খালে জলদেবতার উদ্দেশে প্রার্থনা শেষে পুরানো দু:খ গ্লানি মুছে যেতে ও নববর্ষে যেন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে সে লক্ষ্যে ফুল ভাসিয়ে বিঝুর আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন। স্থানীয়রা এটিকে বলে ফুল বিঝু ।
ফুল বিঝুর পরের দিন চাকমারা মূল বিঝু পালন করে। এদিন বাড়িতে বাড়িতে চলে অতিথি অ্যাপায়নের ধুম। হরেকরকম শাক সবজি ও শুঁটকি দিয়ে রান্না করা পাজন। পাজনের পাশাপাশি পিঠাপুলি, মিষ্টান্ন ও পানীয় দিয়ে চলে অতিথি অ্যাপায়ন পর্ব। মূল বিঝুর পরের দিন গজ্জ্যাপজ্জ্যা (ঘোরাঘুরি) হিসেবে পালন করে।
ত্রিপুরা সম্প্রদায় ত্রিপুরা বর্ষপঞ্জি (ত্রিপুরাব্দ) অনুসারে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনকে চৈত্র সংক্রান্তি হিসেবে পালন করে। সে দিন তারা বয়ো:জ্যেষ্ঠদের গোসল করায় এবং আর্শীবাদ নেয়। ঘরবাড়ি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে চলে অতিথি অ্যাপায়নের প্রস্তুতি। পরের দিন ত্রিপুরারা বৈসুর মূল দিন হিসেবে পালন করে। ঘোরাঘুরির পাশাপাশি পাড়ায় পাড়ায় চলে গড়িয়া দেবতার উদ্দেশে করা বিশেষ প্রার্থনা ”গড়িয়া নৃত্য”।
মারমা সম্প্রদায়ও বাংলা নববর্ষের দ্বিতীয় দিনকে মঘাব্দ বর্ষের প্রথম দিন হিসেবে পালন করে। মঘাব্দ বর্ষের প্রথম দিন মারমারা সাংগ্রাই উৎসব হিসেবে পালন করে। সাংগ্রাইয়ে ঘোরাঘুরির চেয়ে মারমা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে বেশি প্রাধান্য দেয়। পাড়ায় পাড়ায় চলে জলকেলি উৎসব। পছন্দের জুটি করে তরুণ তরুণীরা জলকেলি উৎসবে মেতে উঠে। জলকেলি ছাড়াও চলে ঘিলা খেলা, রশি খেলাসহ গ্রামীণ নানা খেলাধূলা।
বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ বরণেও কমতি নেই পাহাড়ে। জেলা প্রশাসনসহ নানা সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে গ্রহণ করা হয়েছে নানা কর্মসূচি। পহেলা বৈশাখের দিন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্বজনীনভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে খাগড়াছড়িতে। থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ গ্রামীণ মেলা।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যেন বৈসাবি ও বৈশাখীর সব অনুষ্ঠান উদযাপন করা যায় সে লক্ষ্যে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন পয়েন্টে পোষাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান।