ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গাদি আইজেনকটকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের ৬৭ জন আইনপ্রণেতা। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় গাদি আইজেনকটের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পথ সুগম হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে এই সমর্থন তালিকা প্রকাশ করেছেন এবং আগামী রোববার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর কথা রয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৬ জন আইনপ্রণেতা সুপারিশ করেছেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন পেলেও নতুন সরকার গঠন করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে গাদি আইজেনকটের সামনে। নেতানিয়াহুবিরোধী ছয়টি দল নিজেদের মধ্যে দুটি ভিন্ন শিবিরে বিভক্ত হয়ে রয়েছে, যার মধ্যে চারটি ইহুদি নেতৃত্বাধীন জোটে ৪৮ জন এবং দুটি আরব নেতৃত্বাধীন জোটে ১৯ জন আইনপ্রণেতা রয়েছেন। যদিও সব দলই গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দিচ্ছে, তবুও ইহুদি নেতৃত্বাধীন দলগুলোর একটি অংশ আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলে সরকার গঠন করতে এখনো সম্মত নয়। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর জন্য দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে এবং সরকার গঠন নিয়ে নানা সমীকরণ সামনে আসছে।
ইতিমধ্যে রাজনৈতিক নানা মেরুকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে ইসরায়েলের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির বেইতেনু পার্টির চেয়ারম্যান আভিগদর লাইবারম্যান অতি ধর্মীয় ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে আসতে পারেন। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি ইউটিজে দলের সঙ্গে জোট গঠনের কথা বিবেচনা করছেন। সম্ভাব্য এই সরকার গঠিত হলে সেখানে গাদি আইজেনকট ও আভিগদর লাইবারম্যানের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সমঝোতা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এদিকে সরকার গঠনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেট সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে এবং এর পরপরই নতুন স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আরব দলগুলো ইতোমধ্যে দ্রুত নতুন স্পিকার নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে, যা পার্লামেন্টের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, আরব দলগুলোর সমর্থন ও শর্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক চলছে। রা’আম পার্টির নেতা মানসুর আব্বাসসহ অন্যান্য নেতারা মনে করছেন, আরব রাজনীতিকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে আনুগত্যের পরীক্ষার মুখোমুখি করা হচ্ছে, যা ইসরায়েলের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।

